একদিকে করোনা, অন্যদিকে ডেঙ্গু। অনেকে একই সাথে আক্রন্ত হচ্ছেন দুটি’র সংক্রমণে। তাই, এই সময়ে সবারই সাবধান থাকা দরকার। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য দরকার বিশেষ সতর্কতা। এ বিষয়ে চারদিক২৪ ডট কমের সাথে কথা বলেছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সীমা রানী দেবী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামস মাসরাকা।
চারদিক২৪: করোনা মহামারীর এই সমেয়ে অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন। গর্ভকালীন সময়ে ডেঙ্গু হলে কি করনীয়?
ডা. সীমা রানী দেবী: গর্ভকালীন সময়কে আমরা তিন ভাগে ভাগ করে থাকি। এই সময়টার যে কোনো সময়ে যদি গর্ভবতী মায়ের জ্বর আসে তাহলেই আমরা সতর্ক হয়ে যাই। আর এখনকার সময়টায় যেহেতু ডেঙ্গু এবং করোনা দুইটাই চলছে। সেজন্য বাড়তি সচেতন থাকতে হয়। জ্বরটা আসলে কি কারনে আসলো? জ্বর আসলেই ডেঙ্গু এবং কোভিড পরীক্ষা করে নিতে হবে।
চারদিক২৪: গর্ভবতী মা যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত হন সেটা কতটুকু ঝুকিপূর্ণ?
ডা. সীমা রানী দেবী: একজন গর্ভবতী মায়ের শরীরে সাধারণ মানুষের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। অনেক সময়ে ১০০-১০২ ডিগ্রী তাপমাত্রার জ্বরের কারনেও গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ডেঙ্গু একজন মায়ের জন্য খুবই বিপদজনক। তাই এসময়ে গর্ভবতী মা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে, দেরী না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। কারণ এই রোগীকে তখন প্রতিদিনই বাড়তি নিরাপত্তার ভিতর রাখতে হয়। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করতে হয়। ডাক্তারের মনিটরিংয়ে রাখতে হয়। সম্পূর্ণভাবে গর্ভবতী মাকে বিশ্রামে রাখতে হবে। এরপর হচ্ছে ডেঙ্গু এবং গর্ভকালীন সময় অনুযায়ী রোগীকে সেবা দিতে হবে। জ্বর ১০২ ডিগ্রীর নীচে থাকলে প্যারাসাইটামল জাতীয় ওষুধ না দেয়া ভাল হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
চারদিক২৪: ডেঙ্গুর সংক্রমণ কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?
ডা. সীমা রানী দেবী: সাধারণ মানুষ যেমন সংক্রমিমত হয় তেমন গর্ভবতী মায়েরও হয়। ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে সেজন্য গর্ভবতী মা এর ঘর এমন ভাবে রাখতে হবে যে মশা আসতে না পারে। আমরা জানি পরিষ্কার পানিতে মশা জন্মে সেজন্য দেখতে হবে এক জায়গায় যাতে দীর্ঘদিন পানি জমে না থাকে। দিনের বেলা ঘুমালে মশারী টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। মশা নিরোধক ঔষধ ব্যাবহার করতে হবে। আর যদি সন্দেহ হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করতে হবে। আর বাড়তি সতর্ক তো থাকতেই হবে। যেহেতু মা আক্রান্ত হলে তা শিশুর উপর প্রভাব ফেলবে।
চারদিক২৪: গর্ভবতী মায়ের কাছ থেকে কি গর্ভস্থ শিশু আক্রান্ত হতে পারে?
ডা. সীমা রানী দেবী: আমরা তো নয় মাসের গর্ভকালীন সময় ধরি। সেই হিসেবে শেষের ৩ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মা থেকে বাচ্চা সংক্রমিত হতে পারে। এ কারনে বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার প্রথম দশ(১০) দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে দেখতে হয়। মায়ের যেহেতু এতদিনে ডেঙ্গু এন্টিবডি তৈরী হয়ে যায় সেহেতু বাচ্চারও এন্টিবডি পরীক্ষা করতে হয়।
চারদিক২৪: করোনার ক্ষেত্রেও কি এমন?
ডা. সীমা রানী দেবী: না করোনার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত এমন হয় নি। তবে বিভিন্ন দেশে পরীক্ষা করে দেখছে। কোভিড মা থেকে শিশু পেয়েছে এমন সংখ্যা খুবই সামান্য।
চারদিক২৪: বর্তমানে করোনা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা-স্তন্যদায়ী মায়েরাও। এতে কি শিশুর কোনো ক্ষতি হতে পারে?
ডা. সীমা রানী দেবী: কিছু নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন গর্ভবতী এবং স্তন্যদায়ী মায়েরা দিতে পারবেন। এটা মা এবং শিশুর শরীরের কোনে ক্ষতি করবে না। মর্ডানা, ফাইজার,কোভিশিল্ড এই ভ্যাকসিন গুলো গর্ভবতী এবং স্তম্যযাত্রী মায়েরা দিতে পারবেন।
চারদিক২৪: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারন কি বলে মনে করেন?
ডা. সীমা রানী দেবী: ডেঙ্গু আসলে চার ধরনের হয়ে থাকে। একটা হচ্ছে নরমাল জ্বর। আরেকটা ধরণে কিছু লক্ষণ থাকবে যেমন জ্বর,শরীর ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, গায়ে র্যাশ হওয়া ইত্যাদি। তবে, এখন ধারণা করা হয় সবারই একটা ইনফেকশন হয়ে গেছে যেটা টের পাওয়া যায় নি। তবে সেকেন্ড টাইম যখন হয় তখন ডেঙ্গু ভয়াবহ রকম ধারণা করে। তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ওই ডেঙ্গু ইনফেকশনকে প্রতিরোধ করতে পারে না। এরপর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা শুরু হয় যেমন ব্লিডিং শুরু হয়, রোগী শকে চলে যায়। বর্তমানে জ্বর হওয়ার ২/৩ দিনের মাথায় এসব সমস্যা সৃষ্টি হয়।
চারদিক২৪: কোন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন?
ডা. সীমা রানী দেবী: ডেঙ্গুতে সবাই আক্রান্ত হন। তবে এক বছরের কম বয়সী বাচ্চা এবং অধিক বয়ষ্করা অধিক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ডেঙ্গু হলে আসলে এই বয়সীদের বাসায় বসে চিকিৎসা করার উপায় নেই। বয়স্করা নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত থাকেন, ডেঙ্গু হলে সেই সমস্যা গুলো আরো বৃদ্ধি হয়।
