ভাঙ্গাহাড় থেকে বিশ্বজয়!

খেলা

রাহাত আহমেদ

জেরাল্ড কেটজেয়ার বলটা একটু বেশিই উঠে গেলো। বাঁ হাতে বেশ জোরেই আঘাত হানলো। হাড়ে চিড় ধরে গিয়েছিলো। বিশ্বকাপের মাত্র এক মাস আগে দু:স্বপ্নের ঘনঘটা।

জীবনের প্রথম বিশ্বকাপেই যে ছেদচিহ্ন পড়ে যাবে! তবে প্রধান নির্বাচকের ভরসা পেলেন। সঙ্গে আস্থার হাত বাড়িয়ে দিলেন দলের কোচ।

প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয় টিম অস্ট্রেলিয়া। তিনি তখন অ্যাডিলেডে। বাড়ির উঠোনে তখনো সেরে উঠার করসত চলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরাস্ত হওয়ার দিনেও তিনি বাড়িতেই। ছয়টা ম্যাচ পরে নামলেন মাঠে। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি।

ট্রাভিস মাইকেল হেডের গল্পটা সেই চিরায়ত অজি মানসিকতার, কিংবা জীবনেরই। টেস্ট কিংবা ওয়ানডে, কোনোটাতেই ৩০০০ রান নেই। দলে জায়গা পাকা করেছেন এইতো মাত্র কিছুদিন । কিন্তু সবচেয়ে বড় মঞ্চে, সোয়া লাখ সমবেত কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দিলেন। স্ট্রোকের ফুলঝুরিতে সব ভারতীয় গোলাই তাঁর কাছে পানি হয়ে গেলো। ১৩৭ রানের ইনিংসের প্রতিটা রানই একটু একটু করে দলের বুকের ধুকপুকানি কমাতে লাগলো। আউটও হলেন তাঁর সেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায়। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ম্যাচ তাড়াতাড়ি শেষ করাটাই গুরত্ব পেয়েছে বেশি। সেই চিরায়ত অজি মানসিকতাই।

দশ হাজার রান কিংবা বিশটা সেঞ্চুরি নয়, দিনশেষে ফাইনাল জিততে ঐ ইস্পাতদৃঢ় মানসিকতাই লাগে। ওয়াহ জানতেন, পন্টি-গিলক্রিস্টরা জানতেন, এই হেড-কামিন্সরাও জানেন। অস্ট্রেলিয়ান রক্ত যেহেতু, শিরোপার স্বাদটা তাই মুখেই লেগে থাকে সবসময়।

হাড়ভাংগা থেকে বিশ্বজয়। স্বপ্ন তাহলে ‘সত্যিই’ সত্যি হয়। যদি থাকে অদম্য বিশ্বাস আর এক তাসমান সাগর পরিমাণ আস্থা। আর যদি থাকে হেডের মত একটা সিংহ হৃদয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *