সংবাদ শিরোনামে ‘ক্লিকবেইট’, পাঠকের ভোগান্তি

গণমাধ্যম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

তানজিন আক্তার

সাংবাদিকতায় এখন ক্লিকবেইট শব্দটি বহুল প্রচলিত। এটা অনেকটা ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। সংবাদের শিরোনামে বিভ্রান্তিকর বা চমকপ্রদ একটি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে খবরের দিকে দর্শকদের আকৃষ্ট করা হয়। যেমন- একটি বিজ্ঞাপনের শিরোনাম দেওয়া হলো খুবই চমকপ্রদ কিন্তু বিজ্ঞাপনের ভিতরের কথাগুলোর সাথে শিরোনামের কোনো মিল নেই বা আপনি বিজ্ঞাপনটিতে যা আশা করেছিলেন তেমন কিছুই পাননি, এটিই হচ্ছে ক্লিকবেইট।

ব্যবহারকারীরা চমকপ্রদ খবরের আশায় থাকে, আর যখন এসব চমকপ্রদ শিরোনাম দেখতে পায় যথারীতি তারা খবরটি পড়তে গিয়ে আশানুরূপ খবর না পেয়ে হতাশ হয়। শুধু তাই নয়, এসব ক্লিকবেইট অনেক সময় গুজব ছড়াতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইমতিয়াজ মাহমুদ লেখাপড়া করছেন সাংবাদিকতা বিষয়ে। তিনি জানালেন, ‘ক্লিকবেইট প্রায়শই বিভ্রান্তিকর বা চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ব্যবহার করে একটি লিংকে ক্লিক করার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ করে, কিন্তু এটি ব্যবহারকারীদের হতাশা এবং অবিশ্বাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।‘

ইমতিয়াজ মনে করেন, এটি ভুল বা মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।

সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউন নামে মূলধারার একটি সংবাদ মাধ্যমে একটি মুজিব কোট পরিহিত লোকের ছবি দিয়ে শিরোনাম দেওয়া হয়: ‘ভারতবিরোধী ইউটিউব অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট বন্ধ করা হবে: মন্ত্রী’।

এখানে কেবল মন্ত্রী লেখা হয়, কোন মন্ত্রী তা বলা হয়নি। কিন্তু খবরটির ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, তিনি ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। হেডলাইনের বক্তব্যটি তিনিই বলেছিলেন। এখন সেই পোস্টের কমেন্ট বক্স ঘেঁটে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষই ভেবেছিল এটি কোনো বাংলাদেশী মন্ত্রীর বক্তব্য এবং এটি ভেবেই তারা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন।

ঢাবি অধিভুক্ত গার্হস্থ্য কলেজের শিক্ষার্থী সারিয়া তাসনিম অয়ন অবশ্য জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ক্লিকবেইট মাঝে মাঝে ভালো মনে হয়। যেকোনো কিছু নিয়ে কৌতূহল পাওয়া যায়। কিন্তু আগ্রহ নিয়ে খবর দেখার পর যদি দেখতে পাই যে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে তাহলে বিরক্তি কাজ করে।‘

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন জানান, ‘ক্লিকবেইট সাধারণত অনলাইন মাধ্যমে বেশি দেখা যায়। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্লিকবেইট ব্যবহার করে ভিউজের জন্য। এভাবে তারা বিজ্ঞাপন চালানোর সুযোগ পায়। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াও ক্লিকবেইট ব্যবহার করে, এখানে তাদের একটি আয়ের উৎস রয়েছে। আকর্ষণীয় হেডলাইন ব্যবহার করে ক্লিকবেইট প্রস্তুত করা হয়, যার সাথে মূল খবরের তেমন মিল থাকে না।’

তিনি যুক্ত করেন, বাংলাদেশের অনলাইন নিউজের বিনোদন বিভাগে এটি বেশি দেখা যায়। এসব ঘটনার কারণে পাঠকদের সংবাদ থেকে ভরসা উঠে যায়। সংবাদমাধ্যমগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।

শিক্ষার্থী, ৭৮ ব্যাচ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *