কালের সাক্ষী চাঁদপুরের লোহাগড়া মঠ

ভ্রমণ

নাইম প্রধান :

​“রাম নেই, রাজা নেই, আছে রাজত্ব ”এটি একটি বাংলা প্রবাদ হলেও যেনো এর সাথে বর্তমান বাস্তবতা অনেকটাই মিশে আছে। আজ থেকে কয়েক’শ বছর আগে জমিদাররা আমাদের দেশ থেকে তাদের রাজত্ব গুঁটিয়ে নিলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজো দাড়িয়ে আছে তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলী। হাতি,ঘোড়া,পাঁক-পেয়াদা না থাকলেও তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্য জানান দিচ্ছে গৌরবোজ্জল সমৃদ্ধ অতীতের কথা। জমিদারদের এখন আর দেখা নেই ভারতীয় উপমহাদেশে, তবে তাদের গড়া স্থাপত্যশৈলী আজও মন কেড়ে নেয় ।

ধারণা করা হয়, প্রায় ৪০০-৫০০ বছর আগে দুই জমিদার লৌহ এবং গহড়ের নামানুসারে এই স্থানটি লোহাগড়া নামে পরিচিতি লাভ করে, পরবর্তীতে তাদের নির্মিত অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এক উদাহরণ সৃষ্টি করে মঠগুলো। এক ব্রিটিশ পরিব্রাজক ভ্রমনে এসেছিল এই লোহাগড়। ডাকাতিয়া নদীর কোল থেকে জমিদার বাড়ীর অবস্থান বোঝানোর জন্য মঠগুলি নির্মান করা হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। লোক মুখে শোনা যায়, লৌহ এবং গহড় দুই ভ্রাতাই অত্যাচারী শাসক ছিলেন। তাদের ভয়ে কেউ জমিদার বাড়ীর তৃি-সীমায় আসতো না পর্যন্ত। তারা গর্ভবতী মহিলাদের পেটের বাচ্চার লিঙ্গ নিয়ে বাজি ধরতো, পরে সেই মহিলার পেট কেটে ছেলে নাকি মেয়ে তা যাচাই করার মতো পৈশাচিক ইতিহাস আছে এই দুই ভ্রাতার নামের সাথে। দুই ভ্রাতা আজ ইতিহাস হলেও,তাদের স্মৃতিবিজরিত প্রবীণ মঠগুলো শুনশান নিরব সবুজের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

বর্তমানে আর ৩ টি মঠ অবশিষ্ট আছে, ৩ টি মঠ তিনটি ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার। সবথেকে ছোট মঠটির পাশেই ধংশপ্রাপ্ত একটি মঠের অবস্থান। নির্মান কালীন সময়ে সব থেকে উঁচু মঠটির উপরে একটি হীরাখন্ড স্থাপন করা হয়, বর্তমানে সব থেকে উঁচু মঠটি শৈল্পিক কারুকার্যের ছোঁয়ায় অন্যান্য মঠ গুলি থেকে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে দর্শনার্থীদের মনে। তবে ৩ টি মঠের অবস্থাই বেশ নাজুক,মঠগুলির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময় ধংশপ্রাপ্ত হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং স্থানীয়দের দ্বারা । সরকারি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুব তাড়াতাড়ি এটি রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে, হয়তো অদূরেই চাপা পড়ে যাবে শত বছরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য।

যেভাবে যাবেনঃ ঢাকার সদরঘাট গিয়ে সকাল ৭ টা থেকে ঘন্টাখানেক বাদে লঞ্চ ছেড়ে যায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে, চাঁদপুর পৌছে সিএনজি/ইজিবাইকে করে জনপ্রতি ৫০/৬০ টাকা ভাড়া করে চলে যাবেন চান্দ্রা বাজার। সেখানে থেকে রিকশা করে লোহাগড় মঠ। সব থেকে ভালো হয়,যদি আপনি মদনের গাও গ্রামের পাশে সিএনজি থেকে নেমে গ্রামের আকাবাকা পিছঢালা পথে হেটে চলে যান মঠ পর্যন্ত। সবুজে ভরপুর, নিরিবিলি শান্ত রাস্তা ধরে এগোতেই চোখে পরবে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। ভাগ্য ভালো হলে দূর থেকেই মঠের উপরিভাগ দেখতে পারবেন। মঠে যাওয়ার অফিসিয়াল কোন রাস্তা নেই, আপনি চাইলে মাঠের আইল ধরে চলে যেতে পারেন মঠের কাছে।

নাইম প্রধান : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *