মো: আল আমিন তুষার
শহীদ বুদ্ধিজীবী শিক্ষাবিদ মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সার্চ জায়ান্ট গুগল ডুডল প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গুগলের লোগোর মাঝখানে শহীদ মুনীর চৌধুরী খোলা বই হাতে, গায়ে শাল জড়ানো আর চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা।
গুগল ডুডল হলো কোনো বিশেষ দিন, বিশেষ ঘটনা, অর্জন বা বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করতে তাদের হোম পেইজে লোগোর পরিবর্তে ব্যবহৃত শিল্পসম্মত লোগো।
মুনীর চৌধুরীর একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং ভাষা বিজ্ঞানী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন গোপাইরবাগ গ্রামে। পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯৪১ সালে মুনীর চৌধুরী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই.এস.সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ অনার্স (১৯৪৬) ও এমএ (১৯৪৭) পাস করেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের যে কোন ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন। বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি তার বিখ্যাত নাটক কবর রচনা করেন (১৯৫৩)। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। খুলনার ব্রজলাল কলেজ (বি এল কলেজ) অধ্যাপনার (১৯৪৭-৫০) মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (১৯৫০) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগে (১৯৫০-৭১) অধ্যাপনা করেন। মুনীর অপটিমা নামে ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কিবোর্ড উদ্ভাবন করেন তিনি।
বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তার অনন্য কিছু রচনার মাধ্যমে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, নাটক- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২),চিঠি (১৯৬৬) কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬), পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯), মানুষ(১৯৪৭), নষ্ট ছেলে(১৯৫০), প্রবন্ধ- ড্রাইডেন ও ডি.এল. রায় (১৯৬৩), মীর মানস (১৯৬৫) , তুলনামূলক সমালোচনা (১৯৬৯) বাংলা গদ্যরীতি (১৯৭০) এছাড়াও কিছু অনুবাদ ও রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদশীয় দোসরদের হাতে শহীদ হন তিনি ।
