কাজী তাসসিন আহমেদ:
ভবিষ্যতে চাকরির বাজার বা অর্থপূর্ণ উত্পাদনশীল কাজে মানুষের সৃজনশীলতা, কৌতুহল, কল্পনাশক্তি এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। উদ্ভাবনমূলক অর্থনীতিতে নতুন উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে মানবীয় আবেগ এবং কল্পনাশক্তি। ওই সমীক্ষায় এও বলা হচ্ছে, সেজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলে ফেলতে হবে। দুই দশক পরে যে সমস্যা বিশ্বজুড়ে দেখা দেবে তা মোকাবেলায় স্কুল মডেল বদলানোর বিকল্প নেই। মুখস্ত বিদ্যা, পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বদলে উদ্ভাবনমূলক সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন লেখক ও সিলিকন ভ্যালিতে ব্যবসা সম্প্রসারণে পরামর্শক জন হেগেল বলছেন, তোমার পছন্দের ক্ষেত্র খুঁজে বের করো। খুঁজে বের করো যা তুমি সত্যিই পছন্দ করো। তুমি তোমার সেই আগ্রহের পেছনে ছোট যতক্ষণ তুমি তোমার লক্ষ্যে না পৌঁছাচ্ছ। একবার যদি তুমি তোমার স্বপ্নের দেখা পাও, তাহলে সেই স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার পথ সৃষ্টি করো। কারণ তোমার জীবনে এটাই সেই পথ যা নতুন পৃথিবীর জন্ম দিতে চলেছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন পথে রয়েছে?
দেখা যাচ্ছে, শিশুদের মেধা বিকাশে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছে না। মুখস্ত বিদ্যা নির্ভর পাঠ্যসূচি শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণে বরং বাধার সৃষ্টি করছে। গ্রাম পর্যায়ে সরকারি স্কুলগুলোতে তো কথাই নেই, দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে মেধা বিকাশের কোনো সুযোগ নেই। এ বাস্তবতায় আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিকে কী ঢেলে সাজানো প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের শিক্ষানীতি একটি বিশ্বমানের শিক্ষানীতি। এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আমাদের শিক্ষার মানের যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শিশুদের মেধা বিকাশে মুখস্ত বিদ্যার বাইরের কিছু প্রয়োজন। আমাদের সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতি তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির যতটা চিন্তা অভিভাবকরা করেন কিন্তু তার মেধার বিকাশ ঘটছে কিনা, সে নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে তাদের ততটা দেখা যায় না। শুধু অভিভাবক কেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও একটি শিশুর মেধা বিকাশের দিকে খুব একটা নজর নেই। একজন শিক্ষার্থীর মেধাবী হওয়ারও তেমন প্রয়োজন নেই। কেননা, আমাদের দেশে মুখস্ত বিদ্যার অনেক দাম। কিন্তু টেকনিক্যাল বিদ্যার কোনো দাম নেই। কারণ পাঠ্যসূচিকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে গৎবাঁধা মুখস্ত না করলে কোনোভাবেই ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। এমনকি লেখাপড়াকে আনন্দদায়ক করে উপস্থাপনেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। কঠিন এবং নতুন বিষয়ের প্রতি শিশুদের ভীতি সহজাত। সেই বিষয়টিকে আনন্দ দিয়ে শেখানোর পদ্ধতিও নেই। বরং এক নিদারুণ অপমান ও বিভীষিকাময় চাপ তৈরি করা হয় কেউ যদি পড়া না বুঝতে পারে।
কাজী তাসসিন আহমেদ: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী
