মো.নাইমুল ইসলাম
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান গল্পটা স্পোর্টস পেজের হেডলাইনের চেয়েও অনেক গভীরে। এটা একইসাথে স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন ভাঙার, নতুন দিনের আশা আর পুরনো বেদনার এক অপূর্ব মিশেল।
আমাদের টাইগারদের থাবা যেন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে এসেছে। বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচের সেই লড়াকু স্পৃহার অভাবটা মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে। ওভালে সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি এখন বাঙালির হৃদয়ে টাটকা, কিন্তু সেটা যেন একাই দাঁড়িয়ে আছে – সঙ্গী পাচ্ছে না। ব্যাটিং অর্ডারের ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া কখনও কখনও অমাবস্যার চাঁদের মতো মনে হয়। এক ম্যাচের হিরো পরের ম্যাচেই যেন জিরো। স্পিনের ঐতিহ্য এখনও আছে, কিন্তু পেস বোলিং নিয়ে সেই পুরনো চিন্তার ভাঁজ এখনও কপালে রয়ে গেছে।

আফগানিস্তানের মতো দল বাংলাদেশ এর কত পরে এসেও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলে ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে বিশ্বকাপে হারিয়েছে। আর বাংলাদেশ ছোট ছোট দলগুলোর সাথে হারছে কিংবা টেনে টেনে শেষ পর্যন্ত নিয়ে তারপর জিতছে। আর বড় দলগুলোর সাথে তো একপাক্ষিকভাবে হারছে। মানে জেতার মনোবল একদমই নেই।
ম্যানেজমেন্টের কিছু পছন্দের খেলোয়াড় ম্যাচের পরে ম্যাচ খারাপ করেও দলে জায়গা হচ্ছে। আর অনেক সম্ভাবনাময় প্লেয়ার হারিয়ে যাচ্ছে। স্বজনপ্রীতি ও ন্যাশনাল টিমে সিন্ডিকেট বন্ধ হলে এখনও সম্ভব অনেক দূর যাওয়ার।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই তো শুধু জাতীয় দল নয়। মাঠে এখন নতুন এক ঝাঁক তরুণের দেখা মিলছে, যাদের চোখে আগুন নিভে যায়নি। এরা এসেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে, ভাঙছে পুরনো সব ধারণা। তাদের ব্যাটে শট-সিলেকশনের যে সাহস, তা দেখে মনে হয়, তারা ইতিহাসের বোঝা বইছে না – তারা ইতিহাস গড়তে বেরিয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও এখন প্রতিযোগিতার আগুন জ্বলছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

আমাদের মেয়েদের দল নিয়ে কথা বলতেই হবে। ক্রিকেটার হিসেবে নয়, রোল মডেল হিসেবে তারা এখন নতুন প্রজন্মের জন্য আলোর দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সাফল্য শুধু ট্রফির কাউন্টার নয় বরং সমাজের গতিপথ বদলে দেওয়ার লড়াই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এক পালাবদলের মুখে দাঁড়িয়ে। এখানে হতাশা আর আশার বৈপরীত্য যেন লাল-সবুজ জার্সির মতোই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে।
আমরা একইসাথে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখি, আবার স্কোরকার্ডে ৫ রানের কলাম দেখে হতাশও হই। এই দ্বন্দ্বই এখন আমাদের ক্রিকেটের আসল পরিচয়। ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসবে? উত্তর কারও জানা নেই। তবে এটুকু বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনও লিখছে তার নিজের ইতিহাস, একটু রাগে, একটু আবেগে, একটু হতাশায়, আর প্রচণ্ড এক ভালোবাসায়।
লেখক: শিক্ষার্থী
৮২ ব্যাচ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।
