রাহাত আহমেদ
টম হুইটাকের এর নাম শুনেছেন? আমেরিকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় একটা পা হারিয়েছিলেন। দমে যাননি একবারের জন্যও। একটা কৃত্তিম পা নিয়েই জয় করে ফেলেছিলেন মাউন্ট এভারেস্টকে! পৃথিবীর সব থেকে উঁচু জায়গায় খোঁড়া পা রেখে জানিয়ে দেন, ইচ্ছেগুলোর কাছে বাঁধা নয় কিছুই!
খোঁড়া পায়ের টম থেকে খোঁড়া পায়ের ম্যাক্সি। ১৯৯৮ থেকে ২০২৩! কর্মে আলাদা, অমরত্বে সাদৃশ্য!
জীবন যুদ্ধে বারবার ধাক্কা খাওয়া, সফলতার ঘুড়ির সুতা বারবার কেটে যাওয়া, হতাশায় নিমজ্জিত প্রতিটি মানুষের জন্য কিছু মানুষের কর্ম উদাহরন হয়ে থাকে। ঘুরে দাঁড়াও, উঠে দাঁড়াও, দাঁতে দাঁত চেপে চেস্টা জারি রাখো, আস্থা রাখো নিজের দক্ষতায়, থেমে যেও না, চালিয়ে যাও। তোমার ইচ্ছাশক্তির কাছে ভাগ্য পরাজিত হবে, দাস হয়ে থাকবে তোমার! সফলতা তোমার পায়ে চুমু খাবেই একদিন!
টম হুইটাকের আগে করেছিলেন, আজ গ্লেন ম্যাক্সওয়েল করে দেখালেন। এভারেস্ট জয় হোক বা ক্রিকেট ম্যাচ, কিছু জয় শুধুই জয় নয়, কিছু জয় শুধুই উদযাপন বা প্রশংসায় ভাসাবার নয়, কিছু জয় জীবনের প্রতিটি ধাপের শিক্ষা, কিছু কর্ম কোটি কোটি হাল ছেড়ে দেয়া মানুষের জন্য ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি!
ম্যাক্সওয়েল নামের এক অজি আজ উদাহরন হয়ে রইলেন! বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের সাথে ২৯২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৯৩ রানেই অজিরা হারিয়ে ফেললো ৭ উইকেট। আফগানিস্তান তাদের ঐতিহাসিক জয় থেকে মাত্র ৩ উইকেট দূরে। সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন খুব ভালোভাবেই হাতছানি দিচ্ছিল তাদের।
ঠিক তখনই ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম এক সেরা ইনিংস খেললেন ম্যাক্সি। প্যাট কামিন্সের সাথে অপরাজিত ২০২ রানের জুটিতে দলকে জিতিয়ে অজিদের সেমিফাইনালে নিয়ে গেলেন। ইঞ্জুরড পা নিয়ে নিজেও করলেন এই বিশ্বকাপের সর্বপ্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। যতদিন ক্রিকেট থাকবে, ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে তার এই খোঁড়াপায়ের কীর্তি।
