সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি:
‘সারা জীবনের মতো একবারই এই মৃত্যুসাজ
এতদিন প্রাণ ছিল। অমরত্ব শুরু হলো আজ।’
প্রিয়জনের প্রস্থানে এমন করেই লিখলেন কবি, গীতিকার শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়। মহাতারকা সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়ের প্রয়ানে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খ্যাতিমান মানুষরা জানিয়েছেন শোক আর ভালবাসার কথা। গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাদের নিবেদন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘আমি শোকাহত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ চলচ্চিত্রজগতসহ পুরো ভারতের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের এক অপূরনীয় ক্ষতি। তার কাজে বাঙালির চেতনা, ভাবাবেগ ও নৈতিকতার প্রতিফলন পাওয়া যায়।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘’ফেলুদা’ আর নেই, ‘অপু’ বিদায়। বিদায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক ভারতীয় এবং বাংলা সিনেমা একটি দৈত্য হারিয়েছে এবং বাংলার চলচ্চিত্র জগতটি এতিম হয়েছে। আমরা তাকে খুব মিস করবো।’
এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শর্মিলা ঠাকুর জনালেন সৌমিত্র তার প্রথম নায়ক। ‘অপুর সংসার ছবির মধ্য দিয়েই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয়। তিনি খুব বড় বড় মাপের অভিনেতা, একজন বিস্ময়কর মানুষ, বিভূতিভূষণের অপুর মতোই বিস্মিত হতে এবং করতে জানতেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী অপর্ণা সেন লিখেছেন, খুব আশা করেছিলাম, উনি যুদ্ধে জিতে ফিরবেন। একে একে চলে গেলেন মানিককাকা,আমার মা-বাবা,মৃণালকাকা এবার সৌমিত্র ও। কাকে যেন বলেছিলাম, আমার চেনা জগৎটা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। মাথার উপর বিশাল ছাতাটা হঠাৎ করেই সরে গেল।
শ্বাশত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সৌমিত্র জেঠু’র মৃত্যু সংবাদটা মেনে নিতে পারছি না। উনি জানতেন না,উনার ‘অপুর সংসার’ ছবি দেখেই আমার ডাক নাম দেওয়া হয় অপু। উনার মৃত্যুতে কষ্ট হলেও একটা কথাই মনে হচ্ছে যে, উনি বেঁচে গেলেন। উনি এবং উনার চারপাশের মানুষ গুলো অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন।
প্রিয় অভিনতাকে নিয়ে এলিজি লিখেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শিরোনামেই জানালেন যেভাবে আবিস্কার করছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। তার ভাষায়, ‘বাংলা সিনেমার চে যদি উত্তমকুমার হন, সৌমিত্র তা হলে ফিদেল।’

সুবোধ সরকার বলেন, ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে যারা পর্দায় দেখেছেন শুধু, তারা জানেন না যে, তিনি সাদা পৃষ্ঠাতেও পরমান্ন পূজারী। তাঁর কবিতা কখনো ইস্তেহার হয়ে উঠতে চায়নি তবে আমি বলবো তাঁর কবিতা আসলে মানবিকতায় ইস্তেহার। শুনতে পাই তিনি বলে চলেছেন –
“কতগুলো ভীরু বারুদকে আমি
প্রচন্ড রেগে গিয়ে ঘেন্নায়
বোমা আর পাইপগান দিয়ে
ভীষণ চমকে দিয়েছিলাম “’
এ সময়ের ফেলুদাও আবীর ভট্টাচার্য পরম ভক্তি নিয়ে স্মরণ করলেন প্রয়াত মহাতারকাকে, ‘আমি যে ফেলুদা করেছি, সেটা মনেও রাখতে চাই না। কারণ আমার কাছে ফেলুদা মানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।’
জয়া আহসান তার ফেজবুক পেজে লিখেছেন, ‘পর্দায় তিনি যখন অভিনয়ের গরিমা ঝেড়ে ফেলে চরিত্রের আচরণ ফুটিয়ে তুলেছিলেন এবং ভারতবর্ষের শিল্পভূবনে বিস্ময়কর ঘটনার সাথে নতুন যুগের শুরু। বিশ্ব-চলচ্চিত্রের অভিনয়ের প্রথম সারিতেই তার স্থান এবং তিনি ছিলেন এক মহাসাগর যা অতলান্ত কিন্তু শান্ত। তাঁর মৃত্যু নেই।’
