দেবিকা দে
ফ্যাশনের জগতে মোটা নারীদের সবসময়ই দৃষ্টিকটু চোখে দেখা হয়। এ জগতে তাদের একধরনের ঘৃণাই করা হয়। ফ্যাশন জগৎ তাদের নিয়ে কখনই আগ্রহ প্রকাশ করেনি, ফলে তারাও তাদের ক্যারিয়ার এই জগতে কল্পনা করতে পারে না। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শুধু যে মোটা নারীদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় তা নয়, সেখানে স্বাস্থ্যগত দিক, লম্বা-বেঁটে, মোটা-পাতলা, ফর্সা-কালো শারীরিক বিভিন্ন ধরন সবকিছু নিয়েই শেমিং করা হয়। সর্বোপরি ফ্যাশন শিল্প সবসময় নির্দিষ্ট ধাঁচের সৌন্দর্যকে ব্যাখ্যা করে। আর তারা সেই সৌন্দর্যে নিজেদেরকে আটকে রাখে।
তাই বডি শেমাররা তাদের নখরগুলোকে শুধুমাত্র আকৃতিগত পার্থক্য চোখে পড়লেই তাদের বডি শেমিং এর শিকার হতে হয়। এখানে মূলত অনিয়ন্ত্রিত আকার যাদের তাদের সবাইকেই বডি শেমিং এর শিকার হতে হয়।
এমনকি লেডি গাগার মত বড় তারকা ও বডি শেমিংয়ের হাত থেকে রেহাই পাননি। তার সুপার বল পারফরমেন্স এর পর তাকে ট্রল এর শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে একটি পোস্ট করেন তিনি। বলেন, ‘আমি আমার শরীর নিয়ে গর্বিত এবং সবারই উচিত তাদের নিজস্বতা নিয়ে গর্বিত হওয়া, সে যেমনই হোক না কেন। সবচেয়ে বড় কথা নিরলসভাবে আপনি আপনিই থাকুন। নিজস্বতাকে ধরে রাখুন। ভারতীয় অনেক সেলিব্রেটিরাই এই বডি শেমিং নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন।
বডিশেমিং এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সম্প্রতি সোনম কাপুর। নারী সেলেব্রেটিদের ত্রুটিহীনতার পৌরাণিক কাহিনী কে উড়িয়ে দিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। এবং কারিনা কাপুর খান বডি শে মিং বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘এখন ইতিবাচক যুগ এখানে বডি শেমিং করার কোন প্রশ্নই আসে না। ত্রুটি কখনো কোন বাঁধার কারণ হতে পারে না।‘
ফ্যাশন ব্লগার গিয়া কাশ্যপ বেশ কিছুদিন ধরেই এই ব্রিগেডের সঙ্গে লড়াই করছেন। আন্তর্জাতিকভাবে বেশিরভাগ মডেল লম্বা এবং ফর্সা ছিল। সাত বছর ধরে, কাশ্যপ তার নিজের ব্লগে শরীর নিয়ে ইতিবাচক কথা বলে আসছেন। তার পরামর্শ, ‘নিজেকে গ্রহণ করুন। পরিশেষে আমি বলতে চাই সৌন্দর্যের ধারণা নিয়ে থেকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হোক।‘
ফ্যাশন তার নিয়মের সাথে চলে। কিন্তু সেই নিয়ম নিজের উপর চাপানো যাবে না। সমালোচকদের কথায় কান না দিয়ে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। মূলত কিছু বিষয়ের উপর নিজের লক্ষ্য রাখতে হবে-আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাঁচটি উপায় রয়েছে,
১) নিজের সব বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে।
২) নিজের পছন্দের উপর সন্দেহ রাখা যাবেনা।
৩) নিজের সম্পর্কে জানতে হবে।
৪) নিজের একটা ব্যক্তিগত ধরন বজায় রাখতে হবে।
৫) নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া
