আরামদায়ক হলেও ভাড়া ও বিলম্ব নিয়ে ক্ষুব্ধ চক্রাকার বাসের যাত্রীরা

বাংলাদেশ

শিপংকর শীল:

আজিমপুর মোহাম্মদপুর  রুটে চালু হওয়া বিআরটিসি চক্রাকার বাসে  স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করে খুশিই ছিল  বেশিরভাগ যাত্রী। ভেতরে বাইরে ঝকঝকে আর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের সেবায় যাত্রীদের আগ্রহও আছে। তবে, এরই মধ্যে  ভাড়া এবং  স্টপেজে বিলম্বে গাড়ি আসায় ক্ষোভও বাড়ছে।

চক্রাকার বাসের সেবার মান নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মো:ইয়াসিন বলেন, ‘রুটটা অনেক  ছোট। আর একটু বাড়ানো হলে ভালো হতো। সাভির্স  মোটামুটি ভালো, তবে, ভাড়াটা একটু বেশি।’

ইডেন মহিলা কলেজের চতুর্থ বষের্র শিক্ষার্থী নিগার সুলতানা ইভা বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থেকে নিউমাকেটের ভাড়া ৩০ টাকা কিন্তু বেশির ভাগ সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয়। বেশিরভাগ সময় ভীড়ের মধ্যে হেনস্তার  শিকার হতে হয়।’

ঢাকা কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন খান শাকিল জানান, ‘চক্রাকার  বাস যোগে আমি প্রতিদিন কলেজ যাই। মোহাম্মদপুর থেকে বাস পাঁচ মিনিট পর পর ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলে ও বাস ছাড়তে সময় লাগে ১৫- ২০ মিনিট। এছাড়া ঢাকা কলেজে সামনে নামলেও আজিমপুরের ভাড়া দিতে হয়।’

স্ট্যামফোর্ড  বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডী ১৫ নাম্বার যেতে লাগে ২০ টাকা, আবার  ১৫ নাম্বার  থেকে মোহাম্মদপুর  ভাড়া ১০ টাকা।’

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জানার্লিজম  এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক নওশীন জাহান ইতি বলেন, প্রথম দিকে সাভির্সটা অনেক ভালো ছিল। কিন্তু বতর্মানে টিকেট কাটার পর অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় যে সময়ে লোকাল বাসে  করে গন্তবে পৌছাঁনো যায়। অনেক সময় টিকেট ছাড়া অবৈধভাবে যাত্রী তোলা হয়, যার ফলে দূর্ভোগে পড়তে হয় টিকেট কেটে উঠা যাত্রীদের।

এই এলাকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের দাবি, যেহেতু বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন, তাই ভাড়ার বিষয়টা কর্তৃপক্ষের ভাবা দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর টিকেট কাউন্টারে দ্বায়িত্বরত কমকর্তা মো: মামুন বলেন, ‘অধিকাংশ  যাত্রী ধানমন্ডী যাওয়ার টিকেট কেটে আজিমপুর চলে যায়। আবার অনেকে পুরনো টিকেটের তারিখ পরিবর্তন  করে নতুন টিকেট বলে চালিয়ে দেয়। তাই কর্তৃপক্ষ সেদিক বিবেচনা করে কম দূরত্বেও বেশী বাড়া নেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করেছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  জনসংযোগ কমকর্তা উক্তম কুমার রায় বলেন, চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে টিকেট কাটা যাবে। বিলম্বে  বাস স্টপেজ থেকে ছেড়ে যাওয়া বিষয়টাকে  সামনে রেখে সফটওয়ার মাধ্যমে গাড়ি কোন জায়গায় আছে তাও স্টপজে বসে জানা যাবে। ফলে,ভোগান্তি কমবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘চক্রাকার বাস চালুর মধ্য দিয়ে  সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। অন্যদিকে যানজট হ্রাস পেয়েছে। যেকোন ধরণের অনিয়ম এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *