সিদরাতুল মুনতাহা জিসান:
স্বাস্থ্যই সম্পদ- জনশ্রুত এই প্রবাদটিকে বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে সবার কাছে তুলে ধরছেন এক সময়ের তুখোড় রাজনীতিক ও হালের জনপ্রিয় ‘ফিটনেস গুরু’ সোহেল তাজ। স্বাস্থ্য বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাই তার মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিনিয়ত স্বাস্থের নানা বিষয় সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরা এই তারকার কাছে অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, তার এই ফিটনেসের আসল রহস্য কি? তারই উত্তর দিলেন সম্প্রতি নিজের ফেজবুক পেজে। বললেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর যদি দিতেই হয়, তাহলে বলবো, আমি আমার ইনস্পিরেশন বা অনুপ্রেরণা পাই বাংলাদেশের খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক বা একজন রিকশাওয়ালার কাছে। তাদেরকে দিনভর পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জন করতে হয়, কিন্তু এই পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা জীবেনের সবচয়ে মূলবান উপহার পান-যেটা হচ্ছে সুস্বাস্থ্য।’
সোহলে তাজ চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষরা কখনও হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন না। লিখেছেন, ‘একজন কৃষক ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ কি তা সে জানেন না।’
কৃষক শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বোঝানোর জন্য তার লেখার সাথে এমন মানুষদের পেশীবহুল ছবিও সংযুক্ত করেছন তিনি।

তবে সমাজ বাবস্থার পরিবর্তনের ফলে এখন অনেকেই কোনো পরিশ্রম করছেন না উল্লেখ করে সোহেল তাজ লিখেছেন, ‘এর একটা নেগেটিভ দিক আছে, ঠিক একটা গাড়ি যদি বহুদিন পরে থাকে তাহলে সেই গাড়ি অচল হয়ে যাবে। একইভাবে মানুষকে তৈরী করা হয়েছে সচল থাকার জন্য। আর আমরা সচল না থাকলে সেই গাড়ির মতো অকেজো হয়ে যাবো। নানা ধরণের রোগ আর ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হবে।’
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বাংলাদেশে আজ থেকে ৫০ বছর আগে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৫ কিলোমিটার হাটতো, আর এখন সেটা নেমে এসেছে ১ কিলোমিটারেরও কম।
অন্য আরেকটি লেখায় সোহেল তাজ বলেন, ‘আজ থেকে ৫০ বছর আগে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করতেন এবং কৃষি কাজ করে জীবন জীবিকা অর্জন করতেন। তারা উপার্জনের ও বেঁচে থাকার জন্য যেই কায়িক পরিশ্রম করতেন তা তাদের অজান্তেই বড় ধরণের হেলথ বেনিফিট নিয়ে আসতো।’
সেটা মাথায় নিয়েই কায়িক পরিশ্রম এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পরামর্শ দিলেন শহরের বাসিন্দাদের। কারণ তার মতে, একজন ব্যক্তি যদি সঠিকভাবে পুষ্টিকর খাবার খায় আর যথেষ্ট পরিমান শারীরিক পরিশ্রম করে, তাহলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সোহলে তাজ উল্লেখ করেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সকল মৃত্যুর প্রায় ৬০% বা ৯ লক্ষ মানুষ মারা যায় অসংক্রমণক রোগে আক্রান্ত হয়ে, যা প্রতিরোধ যোগ্য ব্যাধি যেমন হৃদরোগঁ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার এবং বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারসহ আরো অনেক রোগ।
