গণমাধ্যমে সব লিঙ্গ ও বৈচিত্র্যের মানুষ সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না

গণমাধ্যম বাংলাদেশ

চারদিক২৪ ডেস্ক:

গণমাধ্যমে সব লিঙ্গ ও বৈচিত্র্যের মানুষ সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। যতটুকু হচ্ছে তার বেশির ভাগই নেতিবাচক খবরের কারণে। গণমাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রেও এসব মানুষের উপস্থিতি কম। এর জন্য পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বাধার পাশাপাশি মানসিকতাও দায়ী। সুসাংবাদিকতা করতে হলে সব লিঙ্গ ও বৈচিত্র্যের মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের সম হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ‘সংবাদমাধ্যমে নারী’–বিষয়ক এ সেমিনার হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এবং ইউল্যাব এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডে বলেন, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিদিনের বাস্তবতা। বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন নারী কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হন। নারী ও প্রান্তিক মানুষ যদি সমানভাবে উপস্থাপিত না হয়, তাহলে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, গণমাধ্যমে সব লিঙ্গের মানুষের উপস্থিতি দরকার। তাঁদের সংখ্যা যত বাড়বে, তত বেশি তাঁদের কণ্ঠ জোরালো হবে। এর জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা দরকার।

সাংবাদিক, গবেষক ও প্রশিক্ষক কুররাতুল-আইন-তাহমিনা বলেন, জেন্ডার বলতে শুধু নারী, পুরুষ বা হিজড়াই নয়, সমাজে নানা বৈচিত্র্যের মানুষ আছে, যারা কোণঠাসা। তাদের উপস্থাপন এবং বৈচিত্র্যতার মধ্য দিয়ে একটি ভালো সমাজ গড়ে ওঠে। এই ভালো সমাজ গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আছে। এটা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।

ফোয়ো-এমআরডিআই ৭ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫টি দৈনিক, ২টি অনলাইন এবং ৩টি টেলিভিশনের প্রায় সাড়ে চার হাজার সংবাদ পর্যালোচনা করে। এ পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন এমআরডিআইয়ের কর্মকর্তা সারওয়াত তারান্নুম। তাতে দেখা যায়, নারীদের নামে ছাপা হওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা মাত্র ৮ শতাংশ। এ ছাড়া গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি ১৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। যার বেশির ভাগই উদ্ধৃতি। জেন্ডার বিষয়ে এ সময়ে কোনো সম্পাদকীয় ছিল না। নারী সাংবাদিকের চেয়ে নারী উপস্থাপক বেশি। এ ছাড়া নারীরা উপস্থাপিত হচ্ছে দুর্বল হিসেবে বা নেতিবাচক কোনো ইস্যুতে। এ ছাড়া বিনোদন ও ফিচার অংশে নারী সাংবাদিক ও নারীকেন্দ্রিক খবরের পরিমাণ বেশি। কিন্তু এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় খেলাসহ মূলধারার সংবাদে।

সাংবাদিকদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলার ওপর জোর দেন ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ।

ডেইলি স্টারের এডিটরিয়াল টিমের সদস্য সুপ্রভা তাসনীমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক তালাত মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক নীনা গোস্বামী, উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আঙ্গুর নাহার মন্টি, ডিবিসি চ্যানেলের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ইশরাত জাহান। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের হেইজ উডস্ট্রা, ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের ডিন জুড উইলিয়াম হেনিলো, এমআরডিআই নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানসহ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *