কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরী আর নেই

বাংলাদেশ বিনোদন

সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি:
করোনার সাথে লড়াই করে আর পেরে উঠলেন না বাংলা চলচ্চিত্রেরে কিংবদন্তী নায়িকা, নির্মাতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। আক্রান্ত হওয়ার ১৩ দিনের মাথায় রাজধানীর গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসার পর পরই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কবরীকে কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ৮ এপ্রিল শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় কারীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার নোয়াল খাল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করলেও কবরীর শৈশব ও কৈশোর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম নগরীতে।তিনি কবরী নামে পরিচিত হলেও জন্মসূত্রে তার নাম মিনা পাল।

১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব হয় কবরীর। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবনের সূচনা হয় কবরীর। এরপর দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ‘হীরামন’,’ময়নামতি’,’চোরাবালি’,’পারুলের সংসার’,’বিনিময়’,আগন্তুক, ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘সুজন সখী, সারেং বউ’সহ তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

তিনি ১৯৭৮ সালে সারেং বউ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরষ্কার পান।

এছাড়া বাচসাস পুরষ্কারে লালন ফকির (১৯৭৩), সুজন সখী (১৯৭৫), সারেং বউ (১৯৭৮), দুই জীবন (১৯৮৮) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরষ্কার পান।

কবরীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র অঙ্গন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রিয় মানুষকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন তারকারা।

সুবর্ণা মুস্তফা লিখেছেন, ‘আপনার হাসি, আপনার অভিনয়, আপনার মিষ্টিমুখ- সকল বয়সের শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। রূপালি পর্দার সেরা অভিনেত্রী..। আমি কিভাবে আপনাকে বিদায় জানাবো…। দমবন্ধ লাগছে…! শান্তিতে থাকুন কবরী ফুপু।’

শিল্পী কনক চাঁপা লিখেছেন, ‘আসলেই আর পারছি না! কবরী আপা নেই। ঘন্টা পাঁচেক আগে দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাস দিলাম,আর এখনই এটা শুনলাম! এভাবেই আমরা একে একে হারাবো আমাদের প্রিয়জনকে! প্রিয়জন চলে গেলে পাঁজরটাই মনে হয় ভেঙে যায়। আর যদি মোটামুটি নিয়মিত হয় তখন তা সহ্যের বাইরে চলে যায়। আল্লাহ, এই রমজানে চলে যাওয়া মানুষটিকে এবং আরও যারা চলে যাচ্ছেন সবাইকে তুমি দয়া করো’।

তিমির নন্দী, ‘আর নিতে পারছি না। করোনার কাছে পরাস্ত হয়ে চলে গেলেন সোনালি যুগের প্রিয় মুখ,প্রিয় নায়িকা, শ্রদ্ধেয় কবরী।সৃষ্টিকর্তা আপনার বিদেহী আত্মাকে চির শান্তি দান করুন, আমিন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *