সরকার নুহাশ :
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বছরজুড়ে এই জেলা পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। পর্যটকদের অভিমত, এখানে দৃষ্টির সীমানা যতদূর যায় মনে হয় প্রকৃতি যেন প্রতিনিয়ত নব রূপে সাজছে। হবিগঞ্জে পর্যটনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা হলো `কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’। যারা এই অভয়ারণ্যের বিষয়ে জেনেছেন তাদের অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রাণী দেখতে এখানে আসেন।
জানা গেছে, কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের দ্বিতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। শুকনো চির চিরহরিৎ এই বনের প্রশস্ততা সুন্দরবনের পরেই।কালেঙ্গার অভয়ারণ্যের আয়তন এক হাজার ৭৯৫ দশমিক ৫৪ হেক্টর।১৯৮২ সালে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা পায়। এটি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার রাণিগাঁও ইউনিয়নের কালেঙ্গায় অবস্থিত। কালেঙ্গায় রয়েছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্ম। এখানে প্রতিদিন বিকেলের দিকে এবং সকাল অনেক প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
পাখির মধ্যে কালেঙ্গায় ভীমরাজ, টিয়া, হিল ময়না, লাল মাথা কুচকুচি, সিপাহি বুলবুল, বসন্তবৌরি, শকুন, মথুরা, বনমোরগ, পেঁচা, মাছরাঙা, ঈগল, চিল দেখা যায়। সারাদিন পাখির পাখির কলকাকলিতে উৎসবমুখর থাকে রেমা কালেঙ্গা। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে বানর হনুমান, চশমা হনুমান, উল্লুক,বেজি, সজারু মায়া হরিণ, মেছোবাঘ, বন্যশুকর ইত্যাদি। কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দায়িত্বরত খলিলুর রহমান বলেন, রেমা, ছনবাড়ী আর রশিদপুর মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ী নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা গঠিত। রেমা কালেঙ্গায় রয়েছে ছোট ছোট পাহাড়-টিলা। এখানকার পাহাড়গুলোর উচ্চতা প্রায় ৬৭ মিটার। রেমা-কালেঙ্গায় প্রায়ই বিরল প্রজাতির প্রাণি পাওয়া যায়। পরে তাদের নামকরণ করা হয় ।
ঢাকা থেকে বনে ঘুরতে আসা আলম রেজা বলেন, যান্ত্রিক জীবনে একটা সময় নিজের কাছে সব কিছু বিরক্তিকর লাগে। নিজেকে একটু ভাল রাখতে ঘুরতে বের হই। এবার কালেঙ্গায় এলাম।এসে খুব ভাল লাগল। রেমা-কালেঙ্গার বর্তমান মেম্বার খলিলুর রাহমান রাইজিংবিডিকে বলেন , আগে এই জায়গা এতো জনপ্রিয় ছিল না। বন বিভাগ রেমা কালেঙ্গায় পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়রিয়েছে। পর্যটকদের জন্য গাইড রাখা হয়েছে । গাইড নিয়ে বনের ভিতরে যাওয়া যায়।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেন দুই মাধ্যমেই যাওয়া যায় । ট্রেনে করে কমলাপুর বা বিমান বন্দর থেকে যাওয়া যযায় । এক্ষেত্রে টিকেটের সর্বনিম্ন দাম পরবে ১৯৫ টাকা । ট্রেন শায়স্তাগঞ্জ জংশনে এসে থামবে। এখান থেকে নেমে সিএনজি বা ইজিবাইক করে নতুন ব্রিজ।ভাড়া জনপ্রতি পড়বে ৫ টকা। নতুন ব্রিজ থেকে থেকে সিএনজি করে চুনারুঘাট। চুনারুঘাট থেকে সিএনজিতে রেমায় যাওয়া যায়। বাস : ঢাকা থেকে সায়দাবাদ, কমলাপুর ও মতিঝিল থেকে বাস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । শায়স্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ নামাবে। সেখান সিএনজি করে যাওয়া যাবে।
সরকার নুহাশ : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
Post Views: 179
