আবির রহমান খান

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের নবীনবরণ “সত্যান্বেষী” অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ‘সত্যান্বেষী’।

বুধবার ৬ মে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৮৫ ও ৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ৮২, ৮৩ ও ৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে হাসি, আনন্দ, আবেগ এবং সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী আব্দুল মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ নাফে আস্-সাবের, রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিনসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শরীফ নাফে আস্ সাবের তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার চাহিদা অনেক বেশি হলেও ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থের পেছনে না ছুটে সত্য অনুসন্ধান ও সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করাই একজন সাংবাদিকের প্রধান কর্তব্য।
কলা এ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সাংবাদিকতা ও মাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী আব্দুল মান্নান, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জীবনমুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন,সঠিক দিকনির্দেশনা শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং তাদের সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুখোশ’। সাংবাদিকতার অন্যতম লক্ষ্য-লুকিয়ে থাকা সত্য উদ্ঘাটন করে সমাজের সামনে তুলে ধরা-এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই থিম নির্ধারণ করা হয়।
উদ্বোধনের পর নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় সিনিয়ররা। প্রথম পর্বে বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করেন। সমসাময়িক মোবাইল সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনাকে কেন্দ্র করে “আটক” শিরোনামের একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ব্যান্ড শো। সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অডিটোরিয়াম। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে গানে অংশ নেন, অনেকে নৃত্যেও যোগ দেন-যা অনুষ্ঠানে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়।
সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের পথচলা আরও সমৃদ্ধ হবে-এই প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সমাপ্ত হয় নবীনবরণ অনুষ্ঠান ‘সত্যান্বেষী’।