নারী দিবসে পুরুষদের চাওয়া: ‘নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে’

তারুণ্যের ভাবনা বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ্র করে পুরুষদের সম্পর্কে নানাবিধ অভিযোগ শোনা যায় আবার নারীপুরুষের বন্ধুত্ব– সে তো চিরায়ত সবচেয়ে বেশি নারীপুরুষকে একসাথে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী সহপাঠীদের সম্পর্কে পুরুষ সহপাঠীরা কী ভাবছেন? দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে সেটাই জানার চেষ্টা করেছেন সীমান্ত খান

 

লাওহে মাহাফুজ মিরাজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

একা যেমন সব কাজ করলে অনেক ক্লান্তি আসে, কিন্তু কাজ ভাগাভাগি করে নিলে সেই ক্লান্তির ছায়ার প্রভাব কমে যায় ৷ এভাবেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অগ্রগতির ধারা ধরে রাখতে সাহায্য করেন৷ যার ফলে, সমাজে-রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রেই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে ততই সব ক্ষেত্রে নারীদের অবদান বাড়ছে৷ নারীদের এই কল্যানময়ী সুচনা থাক অক্ষুণ্ণ, এই আশা ব্যক্ত করে সকল নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, জানাচ্ছি নারী দিবসের শুভেচ্ছা।

মো. মিজু আহমেদ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

বর্তমান সমাজে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই নারী আজ ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়, দিনদিন বেড়েই চলেছে নারীর প্রতি সহিংসতা। এদেশে এখনো নারীরা একা পথ চলতে ভয় পায়। কর্মস্থান থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা হয় লাঞ্ছিত। নারী দিবসে আমার চাওয়া, নারীদের সুরক্ষিত রাখা, তাদের রক্ষা করা ও তাদের পক্ষে লড়াই করা খুবই দরকার। নারীরা অনেক কিছু অর্জন করা সত্ত্বেও মাঝেমাঝে প্রশংসা পেতে ব্যর্থ হয়। নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা পেলে, তাদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই  আন্তর্জাতিক নারী দিবস যথাযথ মর্যাদা পাবে।

মেহেদি হাসান, স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ঘটেছে, কিন্তু ক্ষমতায়নের জায়গাটি এখনো অনেকটা দুর্বল। অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নারীরা কারো স্ত্রী, কন্যা, মা হিসেবে পরিচিত হন। আমরা একটা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করছি। নারীরা নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারছেন না। প্রথাগত মানসিকতা পরিবর্তন করতে সামাজিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এই প্রত্যাশায়, সকল নারীকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

শেখ ম. হ. জামি, ঢাকা কলেজ

আমরা পুরুষেরা জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আমৃত্যু স্নেহ, আদর, যত্ন ভালোবাসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে খুঁজে ফিরি কোন নারীর কোল বা আঁচলের মোলায়েম স্পর্শ। হোক সে মা, বোন, স্ত্রী অথবা প্রেমিকা। এই অর্থে নারীর সম্মানবোধে আমাদের পুরুষদের কোন কার্পণ্য করার প্রশ্ন ওঠারই কথা না। তারপরও বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন জায়গায় আমরা নারীদের অবহেলিত, সম্মানহানী এমনকি নির্যাতিত হতেও শুনে থাকি। যা একজন আদর্শ পুরুষের কাছে লজ্জাজনক এবং কলুষিত করে পুরো সমাজকে পুরো জাতিকে।। নারী দিবস উপলক্ষে আমি সবশেষ এটাই বলতে চাই যে, আমার দেশে প্রত্যেক নারী তার সর্বোচ্চ অধিকার আর নিরাপত্তা নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচুক। আর আগলে থাকুক পরম যত্নে তাদের বাবা, ভাই, স্বামী বা প্রেমিক এর পরমাত্মীয় হয়ে। নারী দিবস উপলক্ষে সকল নারীর প্রতি রইলো শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *