যেভাবে মনে রাখবেন প্রিয়জনের জন্মদিন বা বিশেষ দিনগুলো?

লাইফ স্টাইল

চারদিক২৪ ডেস্ক: 

প্রিয় বন্ধুর জন্মদিন গেলো গতকালই। সৈকত আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন দূরে থাকলেও তাকে অভিনব স্টাইলে উইশ করে চমকে দেবেন। কিন্তু বিভিন্ন কাজ আর চিন্তায় তাকে উইশ করা তো দূরে থাক, জন্মদিনটাই আপনি ভুলে গেছেন! পরদিন সকালে উঠে বন্ধুর সামাজিক মাধ্যমের টাইমলাইনে বিভিন্ন শুভেচ্ছা দেখে মনে পড়লো- ওহ হো! আজ তো ওর জন্মদিন!

এরকম সমস্যা আগেও হয়েছে সৈকতের। এবারেই তো তাদের বিবাহবার্ষিকীটাও ভুলে গিয়েছিলেন। পরে কোনোরকম সত্যমিথ্যা দিয়ে স্ত্রীকে ম্যানেজ করে নিয়েছিলেন অবশ্য। কিন্তু বার বার এই বিশেষ দিনগুলো ভুলে যাওয়ার সমস্যা তার হচ্ছেই। এই কঠিন ভুলে যাওয়া ব্যামো থেকে নিস্তার কি নেই?

অবশ্যই আছে। আপনি চাইলেই সব প্রিয় মানুষগুলোর জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীর কথা মনে রাখতেই পারেন। তবে এজন্য আপনাকে কিছু কৌশল মেনে চলতে হবে। তাহলেই দেখবেন সেই কৌশলগুলোই আপনাকে বিশেষ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে-

রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা-

যেকোনো বিশেষ দিন, উপলক্ষ্য, কাজ, পরীক্ষা মনে রাখতে তো ফোনে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখাই যায়। অনেকেই জন্মদিন মনে রাখার জন্য রিমাইন্ডার পদ্ধতি কাজে লাগায়। এটা ভালো পদ্ধতি। আপনি এজন্য হাতে সময় নিয়ে আপনার আশেপাশের সবার জন্মদিনগুলো রিমাইন্ডারে দিয়ে রাখুন। ভুলে গেলেও বাঁচার পথ আছে।

ডায়েরি বা নোটবুকে লিখে রাখা-

আজকাল সামাজিক মাধ্যম আর প্রযুক্তির সময়ে এসে আমরা ডায়েরি লেখা একেবারে ভুলেই গেছি। লিখতেই ভালো লাগে না এখন আর। কিন্তু শখ করে তো একটা ডায়েরি বা নোটবুক তো আপনি রাখতেই পারেন। সেখানে পছন্দের গান বা কবিতার লাইনগুলোর পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী লিখে রেখে দিন। শুধু লিখেই রেখে দেবেন না। মাঝেমাঝে সেগুলো চেক দিন।

ক্যালেন্ডারও তো রয়েছে-

যুগ যুগ ধরে আমরা বিশেষ কোনো দিন বা উপলক্ষ্যগুলো ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রেখে দেই। এটা হতে পারে পুরনো রীতি। কিন্তু এটা যথেষ্ট কার্যকর। আপনি আপনার বিছানার পাশের ছোট টেবিল বা অফিসের ডেস্কে ক্যালেন্ডারটিতে জন্মদিন দাগিয়ে রেখে দিন। বছরের শুরুতেই ক্যালেন্ডারটি নিয়ে বসুন। ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে কার কার জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সেগুলো ধরে দাগিয়ে ফেলুন। ভুলবেন না আর।

ফোনে নামের পাশে দিনটাও সেভ করে রাখুন-

একটা ভালো বুদ্ধি রয়েছে। আমরা তো পরিচিত প্রিয়জন, প্রয়োজনীয় সবার নামই ফোনে সেভ করে রাখি। সেই নামের পাশাপাশি তাদের জন্মদিনটাও সেভ করে রাখতে পারেন। সেটা সংক্ষেপেও করে রাখতে পারেন। যেমন ধরুন নাম লিখলেন অমিত, তার জন্মদিন ১৬ জানুয়ারি। লিখবেন এভাবে- অমিত ১৬.১। ব্যস, সবসময় চোখের সামনেই থাকলো জন্মদিন।

দিবসটির আশেপাশে কোনো বিশেষ দিবস বা উপলক্ষ্য আছে কিনা-

ধরুন আপনার বন্ধুর জন্মদিন ডিসেম্বরে। মনে রাখবেন ঐ মাসেই আমাদের বিজয় দিবস। সেই দিবসের আশেপাশে কারো জন্মদিন সেটা মনে রাখুন, কার জন্মদিন সেটা মনে রাখুন, ঐ দিনটির কতদিন আগে বা পরে জন্মদিন সেটা মনে রাখুন। দেখবেন এই বিশেষ পদ্ধতিতে বিশেষ দিনটি ভুলে যাওয়ার কোনো ভয় থাকছে না।

উপহার কিনে ফেলুন আগেভাগেই-

ধরুন আপনার তারিখ মনে রাখতে সমস্যা হয়। কিন্তু মাসটা হয়ত মনে থাকে। এই অবস্থায় আপনি এক কাজ করুন। জন্মদিন মনে রাখার তাগিদে বেশি কিছুদিন আগেই উপহার কিনে ফেলুন। উপহারের প্যাকেটে বড় করে নাম আর তারিখ সুন্দর করে লিখে রাখুন। দেখবেন এই উপহারের কথা মাথায় রেখেই আপনার জন্মদিনটার কথাও মনে থাকছে।

নিজেদের বিবাহবার্ষিকী মনে রাখতে-

অনেক সময়ে নিজেদের বিবাহবার্ষিকীও ভুলে যায় অনেকে। এই অভিযোগটি স্বামীদের ওপরেই বেশি পড়ে। এতে করে স্ত্রী রেগেমেগে হুলুস্থূল বাধিয়ে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক হতে হবে, নইলে ঘটবে দাম্পত্য কলহ। আপনি আপনার ফোনে রিমাইন্ডার দিবেন, ডায়েরিতে লিখে রাখবেন, ক্যালেন্ডারেও দাগিয়ে রাখবেন। আপনি আরেক কাজ করতে পারেন। আপনার খুব কাছের বন্ধু বা সহকর্মীকে আগের থেকেই তারিখটা জানিয়ে বলে দিতে পারেন যে আপনি ভুলে যেতে পারেন। তাই আপনাকে যেন আগেই জানিয়ে দিতে পারে বন্ধু বা সহকর্মীটি। আপনাদের ঘরে যদি কোনো যুগল ছবি থাকে সেই ছবির পাশে বা পিছনে বিয়ের তারিখটি লিখে রাখবেন। বিয়ের ছবির অ্যালবামেও সেটি লিখে রাখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *