খাদিজা ইসলাম স্বপ্না:
জামদানি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘জামদানি উৎসব’ বয়নশিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রমাণ বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেঙ্গল শিল্পালয়ে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামদানি উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপােরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।

শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি বলেন, আজকের এই উৎসব জামদানি শিল্পের, এই শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রমাণ। প্রত্যেকটি শিল্পী পরম মায়া মমতা দিয়ে একেকজন শিল্পী পরিশ্রম করে যেমন মা তার সন্তানকে ভালোবাসে ঠিক সেইভাবে তুলে ধরেন তাদের শিল্পকে। তাদের আমরা শ্রদ্ধা করছি। তিনি আরো বলেন, জামদানি বয়নশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মৌলিক, উৎকৃষ্ট ও অন্যতম অংশ। পারসিক মোটিফের সঙ্গে বাংলার নিসর্গ ফুল-ফলের নকশা সংযোজন করে বয়নশিল্পীরা জামদানিকে করে তোলেন অনিন্দ্যসুন্দর।
জামদানি উৎসবে বক্তারা বলেন, অসাধারণ নকশায় সমৃদ্ধ জামদানি বস্তুত মসলিনের একটি প্রকার, যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের বয়ন শিল্পীদের হাতে অনবদ্য শিল্পকর্ম রূপ নিয়েছে। ষষ্ঠদশ শতকে মুঘল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার নন্দিত মসলিন হয়ে ওঠে সৃজনসৌকর্যে উৎকৃষ্ট নকশাদার জামদানি।
উদ্বোধনী দিনের প্রদর্শনীতে ছিলো পুরোনো সংরক্ষিত শাড়ির সংগ্রহ, সুতা গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য – উপাত্তসহ সোনারগাঁও এর কৃতী জামদানি বয়নশিল্পীদের তৈরি একশ বছর পুরনো নকশার অনুকরণের অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে নতুন করে বয়নকৃত শাড়ি ও বস্ত্রসম্ভার।
জামদানি বয়নশিল্পের চর্চা ও উন্নয়নে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এমন চারটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান থেকে ২জন করে প্রধান বয়নশিল্পী ও সহকারী বয়নশিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জামদানি উৎসব আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এসময় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে জামদানি প্রদর্শনী। তবে রোববার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
