জয়া হাসান
শাড়ি তার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম। বর্তমানে শাড়ির অনলাইন পেজগুলোই তার প্রথম পছন্দ। শাড়ি নিয়ে কথা হচ্ছিল সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজনাত ছোয়া সাথে। তিনি বলেছিলেন, এর অন্যতম কারণ হলো, বর্তমানে, হাফসিল্ক শাড়িতে হ্যান্ড-পেইন্ট ডিজাইন করা শাড়ি খুব জনপ্রিয়, কিছু ক্ষুদ্র নারী উদোক্তারা অনলাইনে শাড়িগুলো সেল করছেন। অনলাইনের এসব পেজ থেকে শাড়িগুলো কেনার মাধ্যমে তিনি যেমন নতুন ও শৈল্পিক ডিজাইনের কিছু শাড়ি পাচ্ছেন, একইভাবে উদ্যোক্তাদেরও পাশে থাকতে পারছেন। এছাড়াও ১০/১২টি শাড়ির দোকানে ঘুড়ে-ঘুড়ে শাড়ি কেনার চেয়ে, অনলাইনে ঘরে বসেই পছন্দের শাড়িটি কেনা লাভজনক ও সুবিধাজনক বলেই তিনি মনে করেন।
প্রায় একই অভিজ্ঞতা মাশরাকা জিতুর। তিনি বলেন, শাড়ি নিয়ে বলেন অনলাইন পেইজগুলো বর্তমানে সবার কাছে হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য। অনলাইনে পছন্দ করে অর্ডার করলে বাসায় পৌঁছে দেয় এটা একটা সুবিধা আর হচ্ছে সব পেজ গুলোতে মোটামুটি রিটার্ন করার সুবিধা থাকে যার ফলে শাড়ি যদি পছন্দ না হয় তাহলে রিটার্ন ও করা যায়। আর বর্তমান সময়ে পেজ গুলোর রিভিউ দেখেও বোঝা যায় কেমন পণ্য তারা বিক্রি করছে।
প্রিয়জনকে তার পছন্দের জিনিসটি তুলে দিতে অনলাইন মাধ্যমকেই উপযুক্ত বলে মনে করেন রিদিতা সাহা। তিনি বলেন, অনলাইনের বদৌলতে ঘরে বসেই কোন ঝামেলা ছাড়া নিজের পছন্দের প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যাই। এমনকি কাউকে গিফট পাঠাতে হলে তার ঠিকানা দিয়ে পেমেন্ট করে দিলেই সহজেই কোন ঝামেলা ছাড়া প্রোডাক্ট পৌছে যায়। তাই অনলাইন থেকে কেনাকাটা করতেই আমার বেশি ভাল লাগে।

বাঙালির যেকোন উৎসব মানেই শাড়ি। এই ১২ হাত লম্বা সেলাইবিহীন ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের দাম্ভিকতা যে কতখানি সেটা অনুভব করতে হলে সবাইজে বাঙালি হতে হবে। ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ, ভালোবাসা দিবস কিংবা মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ যাই হোক না কেন আমাদের দেশের সিংহভাগ নারীরা কিন্তু এখনো এসব দিনে পোশাক হিসেবে শাড়িকেই বেছে নেয়। জ্যামের শহরে শাড়ি কিনতে ভীড় ঠেলে একজায়গা থেকে আরেক জায়গা ছুটে বেড়ানো যেন যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে যায় তখন ভরসা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এছাড়াও ভিড়-ভাট্টা, দামাদামির ঝামেলা, শ্রম ও সময়সহ আরও নানান সমস্যা তো আছেই। ব্যস্ত জীবনে এতো সময় কোথায়! আর তাই এসকল কারণেই আজকাল ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা যেন সবকিছুকে ছাঁপিয়ে একেবারে তুঙ্গে। কেননা, অনলাইনের মাধ্যমে কোন ঝামেলা ছাড়া ঘরে বসেই সবাই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে সবার প্রয়োজনীয় জিনিস।
সহজে সুন্দর শাড়ির চাহিদা মেটাচ্ছে অনলাইন। অনলাইনে অনেক ভালো ভালো শাড়ির পেজ বা ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে সবাই নিজেদের ইচ্ছে ও পছন্দ মত কোন ঝামেলা ছাড়াই শাড়ি কিনতে পারে।
শাড়ি পরতে পারে না বলে কিছু নেই। শাড়িকে শাড়ির মতোই থাকতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অনলাইন পেজ স্বত্বাধিকারী রাকিবা আনজুম নিরা। তিনি বলেন, শাড়ি যেভাবে থাকতে চায় থাকবে। এতো পারফেক্ট করে কুচি-আচল-পার করার কোনো প্রয়োজন নেই। এলোমেলো শাড়ি পরা বরাবরই আমার কাছে কেমন যেন স্নিগ্ধ লাগে। যদি সে নিজের মত নিজে না বহে তাহলে আর তার নিজস্বতা থাকলো কই?
এবারতো ফাল্গুন ও ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হবে। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় যদি শৈল্পিকতা ক’হাত কাপড়ে উপস্থাপন করতে পারি এবং বর্তমানে অনলাইনের প্রসারতা ও নির্ভরতায় তা সবার মাঝে পৌঁছে যায়, এইতো চাওয়া – এইতো পাওয়া।
শাড়ির কথা চিন্তা করলে প্রথমেই আসে ‘আড়ং’ এর কথা। এখানে ১ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার শাড়িও কিনতে পাওয়া যায়।আড়ংয়ে ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বারোশো-পনেরোশো-দুই হাজার টাকার শাড়িও পাওয়া যায়। সবাইকে নিজের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী পছন্দের জিনিসটি খুঁজে নিতে হবে।
আড়ং ছাড়াও আরও কিছু শাড়ির অনলাইন পেজ রয়েছে। এগুলো হলো- খুঁত, শুকসাড়ী, জায়া, পটের বিবি, কইন্যা, ইচ্ছে রং, খাঁচা, সুন্দ্রিতা, নীলপদ্ম বুটিক্স, তেপান্তর, শাড়িওয়ালি, গুটিপোকা, চারুলতা, তাঁতি পল্লী, মেনকা, হুতুম পেঁচা, টেন টু থাউজ্যান্ড, তাহনূর, নকশা বুনাই, রাই , চিরকুট, মেঘবসনা, ইশকাপন, পাঁচফোড়ন, সুরঞ্জনা, মানবী, বাঙাল, নীলাম্বর, ভূমিসুতা, তায়সা, রৌশান, পাটরানী, ১২ হাত গল্প, বিবির সিন্দুক, বৃহঙ্গনা, শাউলীর পন্যগৃহ, চার কন্যা, শিখরী, সুন্দ্রিতা ইত্যাদি।
শিক্ষার্থী, ৭৮ ব্যাচ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।
