জীবনে চলার পথে ভালোবাসার স্বাদ নিতে হয় সবাইকেই। সে ভালোবাসা হতে পারে প্রেয়সীর জন্য, বন্ধুর জন্য, মা-বাবা-সন্তানের জন্য, অথবা মানবতার জন্য। জীবনের ভিন্ন ভিন্ন স্তরের এই ভালোবাসার অনুভূতিই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে। অনেকের কাছে এই অনুভূতির কোনো নির্দিষ্ট দিন, সময় বা পরিসীমা নেই। আবার অনেকেই বেশ ঘটা করে উদযাপন করেন ‘ভালোবাসা দিবস’। ভালোবাসা দিবস নিয়ে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কি ভাবছে? দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে সেটাই জানার চেষ্টা করেছেন তাজবিহ স্মরণ।
মুজাহিদ আবিদ মিথুন, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ
আমার কাছে ভালোবাসা মানে ১৪ই ফেব্রুয়ারি একসাথে ঘোরা নয় বরং আজীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি ; কেবল মেসেঞ্জারে সারারাত চ্যাট করা নয় বরং না বলেও একে অন্যের সুখ দুঃখের অংশীদার হওয়া। আমার কাছে ভালোবাসা মানে কেবল পাঁচতারকা হোটেলে বসে ‘চিল’ করা নয় বরং একমুঠো বাদামে সুখের পরশ খোঁজা, পান থেকে চুন খসলেই ব্রেক-আপ নয় বরং ভালো-মন্দ উভয় সময়েই হাতে হাত ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি; সেটাই তো ভালোবাসা। সবার জীবন এই শুদ্ধ ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করি।
নূরানী জাহিদ সুমি , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ভালোবাসা বলতে আমি বুঝি একজন মানুষের অন্য মানুষের প্রতি তীব্র ইতিবাচক অনুভূতি। হতে পারে সেই মানুষ টি বিপরীত লিঙ্গের অথবা সমলিঙ্গের। সম্পর্ক হতে পারে স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে শুরু করে ভাই-বোন অথবা আত্মীয়-স্বজন। মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্যই অন্য মানুষকে ভালোবাসা। ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিবস টি একই সাথে আলোচিত এবং সমালোচিত। তবে এই দিবস নিয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষের যে উদ্দীপনা সেটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি। আমাদের সুখে থাকার অন্যতম হাতিয়ার ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা কেউ প্রকাশ্যে প্রকাশ করুক বা গোপনে, তাতে দোষের কিছু নেই। তবে আমরা যেন আমাদের সম্পর্ক টাকে গুরুত্ব দিই সেটাই আসল বিষয়। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবনেও যেন আমরা একে অপরকে ভালোবেসে সুন্দর সমাজ গড়তে পারি, এটাই এবারের ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আমার প্রত্যাশা।
কাজী আহসান ইভান, ফেনী সরকারি কলেজ
ভালোবাসা এক সংজ্ঞাহীন মহাকাব্য। কারো কাছে তা আবেগ, কারো কাছে বেঁচে থাকার অবলম্বন, আবার কারো কাছে নিছক প্রেম নিবেদন মাত্র। ভালোবাসা একটি অনুভূতি যা সম্পর্কের জন্ম দেয়, যার ছোঁয়ায় স্বার্থপর মানুষও নিঃস্বার্থবান হতে বাধ্য। ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরেই। শুধু এই দিনে নয়, প্রিয় মানুষের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা কাজ করে প্রতিনিয়ত, প্রতিক্ষণেই। তারপরও তারুণ্যের এই সীমারেখায় দাঁড়িয়ে, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে, ধিক্কার জানাই সেসকল তরুণ-তরুণীদের প্রতি যাদের নোংরামিতে নষ্ট হচ্ছে এই ‘ভালোবাসা দিবস’ এর স্নিগ্ধতা।
আহমেদ মারুফ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ভালোবাসা মানে এক আসমান আবেগ অনুভূতি বিশ্বাস বিলিয়ে দেওয়া। ভালোবাসা মানে প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি, আমৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকার অঙ্গিকার, হারানোর ভয় নিয়ে নিদ্রাহীনতায় ভোগা। ভালোবাসা মানে অপেক্ষা, উপেক্ষা, অবহেলাকে বুকের মধ্যে আপন করে নেওয়া। এই ভালোবাসার আসলে আলাদা করে কোন দিন হয় না; প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্তেই ভালোবাসা যায়, ভালোবাসতে হয়। তারপরও সবাই এই ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটির অপেক্ষায় বসে থাকে। প্রত্যেকে তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘটা করে আনন্দ করতে ভালোবাসে এই দিনটিতে। কিন্তু আমি চাইব শুধু এই দিনটিতেই নয়, বছরের ৩৬৫ দিনই আপনারা ভালোবাসার মানুষের সাথে ঘটা করে উদযাপন করুন।
ইন্দ্রানী মল্লিক, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
আমার মনে হয় ভালোবাসার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা হয় না। আমরা যে যেভাবে অনুভব করি সেটাই আমাদের কাছে ভালোবাসা। বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস যেহেতু একদিন, এটা আমাদের বাঙ্গালীর কাছে উৎসবের থেকে কম কিছু নয়। তবে বসন্ত আর ভালোবাসার মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া বেশ কঠিন। আমার কাছে এটা ভালোবাসার বসন্ত। আবার অনেকের কাছে হয়তো বসন্তের ভালোবাসা।
কামরুল হাসান শান্ত, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ভালোবাসা দিবস, এই ‘দিবস’ শব্দটিতে আমার তেমন কোনো আকর্ষণ নেই কারন আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকে আমি সবসময়ই ভালোবাসি। আর এই ভালোবাসার বিভিন্ন রূপ হতে পারে; যেমন মা-বাবার প্রতি, প্রিয় মানুষটির প্রতি, ভাই-বোনেরের প্রতি, বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি ভালোবাসা। ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো এবং তাদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটুক প্রতিদিন,প্রতিক্ষণ।
