সাংবাদিকতা পেশায় অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই: শ্যামল দত্ত

সাক্ষাৎকার

শিপংকর শীল:

দেশবরেণ্য গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সাথে দীঘ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাহার সাংবাদিকতার বণাঢ্য জীবন এবং যারা ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার মত সেবাধর্মী মহৎ পেশায় আসতে চায় তাদের প্রতি রইল উপদেশ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছে শিপংকর শীল।

সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার কারণ:- 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পর লক্ষ্য ছিল চলচ্চিএ নির্মাতা হওয়ার কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য পরিবর্তন হতে শুরু করল ১৯৮৭ সালে। পূর্বকোণে চাকরি নেওয়ার পর থেকে সেখানে ভালো নিউজ করার জন্য সহকর্মীদের প্রশংসা আমাকে আরো উৎসাহিত করলো।

পেশাগত পটভূমি:-
১৯৮৭ সালে পূর্ব কোণের ঢাকা অফিসে চাকরির শুরু করেন তারপর ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে Weekly Friday তে লেখা শুরু করেণ।১৯৯১ সালে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে  নিযুক্ত হন।১৯৯২ সালে একই পত্রিকায়  কূটনৈতিক  প্রতিবেদক হিসেবে যোগদান করেন।১৯৯৮  সালের ভোরের কাগজ পএিকায়  বার্তা প্রধানের দায়িত্ব পান।২০০৩ সালে নির্বাহী  সম্পাদকের দ্বায়িত্ব  পালন করেন।২০০৫ সালে ভোরের কাগজ পএিকায় সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন;বর্তমানে সেই পদে বিদ্যমান রয়েছেন। বর্তমানে তিনি কমন ওয়েলথ সাংবাদিক এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।প্রেস ইনষ্টিটিউট বাংলাদেশ বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য, আইন এবং উন্নয়ন দ্বন্দ প্রতিষ্ঠানের  পরিচালকের পদে নিযুক্ত আছেন।এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদকের পদে যুক্ত আছেন।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি,বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবপদিক সংস্থা, এশিয়ান, আমেরিকান সাংবাদিক সংস্থা, কূটনৈতিক প্রতিবেদক সংস্থা, কূটনৈতিক প্রতিবেদক সংস্থা বাংলাদেশ এসব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত আছেন।

টকশো উপস্থাপক: –
এটিএন বাংলার বর্তমান  সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপটের উপস্থাপক।এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারী চ্যানেলের অতিথি হিসেবে অালোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

যারা সাংবাদিকতা পেশায় আসতে চায় তাদের প্রতি পরামর্শ:-
মেধা এবং পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারবে তাদের জন্য এই পেশাটা সর্বোত্তম। সাংবাদিকতা পেশায় কেউ  আসতে চাইলে প্রচুর অধ্যাবসায়ের কোন বিকল্প নেই।ধারণা রাখতে হবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যেকোন বিষয় সম্পর্কে  লেখার হাত ভাল থাকতে হবে।সততা,বস্তুনিষ্ঠতা একজন সাংবাদিকের  থাকা দরকার।

সাংবাদিকতা হল এক ধরনের প্যাশন:- 
সাংবাদিকতা এক ধরনের প্যাশন কারণ এ পেশাটাকে উপভোগ করতে হবে। এ পেশা থেকে স্বাদ নিতে হবে এবং ২৪ ঘন্টা  খবরের অনুসন্ধানে তাড়িয়ে বেড়াতে হবে।সাংবাদিকতা পেশায় এসে স্বাদ নিতে না পারলে তার জন্য এই পেশায় না অাসাই ভাল।যে কোন মানসিক চাপকে আনন্দ সহকারে মেনে নিতে হবে।

টার্গেট রাখতে হবে লিড করার:
প্রতিদিনের অফিসের এ্যাসাইনমেন্টের কাজগুলো এমনভাবে করতে হবে যাতে নিউজটা লিড হয়। লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য লিডের দিকে থাকতে হবে।তাছাড়া ভালো রিপোর্ট করতে চাইলে প্রচুর সাহিত্য পড়তে হবে কারণ সাহিত্য পড়লে  কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। তারমধ্যে অন্যতম হল রবীন্দ্রনাথ ও সমসাময়িক সাহিত্য। বাংলাদেশের রাজনীতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানতে হবে।ভালো রিপোর্ট করার জন্য দৈনিক ৪-৫ টা দৈনিক পএিকা পড়তে হবে

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও বাস্তব কর্মক্ষেএ:-
সাংবাদিকতায় জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই আবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে  বাস্তবে কোন মিল নেই। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গাইডলাইন অনুসরণ করে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ভালো করা যায়।

কল্পার শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে:
কোন একটা বিষয়ে লিখতে হলে প্রথমে যে বিষয়টা নম্পর্কে একজন সাংবাদিক রিখবে সেই বিষয়টা তাকে কল্পনা করতে হবে।কল্পনা করলে নিউজটা অনেকাংশে ভাল একটা সংবাদ হয়। ২৪ ঘন্টা কবরের অনুসন্ধানে নিজেকে তাড়িয়ে বেড়াতে হবে।

সাংবাদিকতার ঝুঁকির ব্যাপারে :
যে কোন পেশায় ঝুঁকি আছে তবে সাংবাদিকতায় বেশি। ক্ষমতাশীল দলের হুমকি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের হুমকি, পত্রিকায় মালিকের মতামতের গুরুত্ব, সব মিলিয়ে ঝুঁকি আছে।তবে সত্যতা, নিষ্ঠতা,বস্তু নিষ্ঠতাকে অনুসরণ করতে হবে। হার মানা যাবেনা।কারণ সাংবাদিকতা হল সেবাধর্মী পেশা।কারণ সাংবাদিকরা জনগণের কথা বলে।

সাংবাদিকতা হবে আগামীদিনের নিউ মিডিয়া: 
সারা দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয় ;বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ কোটি লোক মোবাইল ব্যবহার করে । বাংলাদেশে ৭.৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাই যারা সাংবাদিকতা পেশায় আসতে চায় তাদের অব্যশই  বিকল্প চিন্তাভাবনা  করতে হবে।নতুন মিডিয়ার চিন্তা করতে হবে। যেন মানুষ দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই খবর পেয়ে যায়।সাংবাদিকদের সবসময় সৃষ্টিশীল থাকতে হবে।সৎ, সত্যনিষ্ঠতা কাজের প্রতি নিবেদিত হওয়া, দেশ ও মানুষের সেতুবন্ধনের কাজে নিয়োজিত থেকে কাজ করতে হবে।প্রলোভনে নত স্বীকার করা যাবে না।

শিপংকর শীল: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *