সৃজিতের জিত, ঘরে আনলেন সাত ব্ল্যাক লেডি

বিনোদন

মিশু চৌধুরী:
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার মানেই অন্যরকম শোরগোল। কে পাবেন আর কে পাবেন না এই নিয়ে গুঞ্জনের কমতি হয় না কখনোই। আর সেটা এবার একটু বেশি শোনা গেছে ভারতের পশ্চিমবাংলায়। কারণ, প্রথমবার বাংলায় দেওয়া হলো এই পুরস্কার। এখন হিসেব, কার ঘরে গেল কত পুরস্কার! তাতে, সবাইকে আশ্চর্য করে যার নাম সামনে, তিনি সৃজিত মুখোপাধ্যায়। কারণ সাত-সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

রুদ্রনীল ঘোষ ও সৃজিত নিজেই চিত্রনাট্যকার হিসেবে ‘ভিঞ্চি দা’ ছবি থেকে পেয়েছেন সেরা ছবি ও গল্পের জন্য পুরষ্কার। সৃজিতের থ্রিলার সিনেমা ‘ভিঞ্চি দা’র মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে রুদ্রনীল ঘোষ কে। প্রথমত, নাম থেকেই একটা প্রশ্ন আসে- ‘ভিঞ্চি দা ? লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি র সাথে যোগ থাকতে পারে। তবে, গল্প তাঁকে নিয়ে নয়। গল্প কেন্দ্রীভূত একজন শিল্পীকে নিয়ে, একজন মেক আপ আর্টিস্ট। ভিঞ্চি দা তার শিল্প নিয়ে অতিরিক্ত পরিমানে আসক্ত এবং সেটা নিয়ে সে হীনমন্যতায় ভুগেন। তার ওপর অর্থ উপার্জনের সমস্যা। এমন সময় তার কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দেয় আদি বোস (ঋত্বিক) নামে এক উকিল। আদি বোস তার পরিচয় প্রথমে গোপন রাখে ভিঞ্চি দা-র কাছে। এভাবেই আদি বস মুখোশ, মেক আপ-এর মাধ্যমে একের পর এক খুন করতে থাকে। গল্পের শুরু এ নিয়েই। গল্পে বিজয় পোদ্দার (অনির্বান) খুনের তদন্তের ভার নেয় এবং গল্প এগোতে থাকে।

‘শাহজাহান রিজেন্সি’ থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জিতে নেন স্বস্তিকা মুখার্জি ও প্রথমবারের মতো সেরা পুরুষ প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সৃজিতের এই ছবির একটা মজার ব্যাপার হল, এখানে বাঙালিত্বের এমন কিছু নিজস্ব রেফারেন্স আছে যা খাঁটি বাঙালি না হলে উপভোগ্য হয়ে ওঠে না। এই যেমন শঙ্করের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ অবলম্বনে ১৯৬৮-তে নির্মিত উত্তমকুমারের ব্যাপক সফল ছবি ‘চৌরঙ্গী’এর রিমেক ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ সৃজিত মুখোপাধ্যায় বানিয়ে ফেললেন নিমিষেই। ছবিটা শুরু হয় লীলা মজুমদারকে কোট করে, ‘এখানে (এই শহর কলকাতায়) জায়গারও ভূত আছে।’ আসলে কলকাতা নিজস্ব নিয়মেই একটা ভূতগ্রস্ত শহর। শুধু এখানে সময় একটা আলাদা চরিত্র যা কখনও প্রাণ পায়, কখনও জ্বলে উঠতে গিয়ে নিভে যায়। চিহ্নগুলো বদলায় শুধু সময়ের। বাকি সব এক থাকে। সৃজিত সম্ভবত এই বদলটাকেই বার বার তুলে আনতে চেষ্টা করছেন তাঁর ‘অটোগ্রাফ’থেকে শুরু হওয়া জার্নিটার মধ্যে দিয়ে। সেই কারণেই শাহজাহান রিজেন্সিতে সেই বিস্ময় আর ঘোরের মধ্যে হোটেলে চাকরি নিয়ে রোজির জায়গা দখল করা শঙ্করকে পাওয়া যাবে না। এখানে আরও পাওয়া যাবে না পর্তুগিজ ম্যানেজার মার্কোকে।

গুমনামী ছবি থেকে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও প্রোডাকশন ডিজাইন এর জন্য পুরষ্কার পেয়েছে শ্বিবাজি পাল। এছাড়াও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবির পুরস্কার পেয়েছে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘গুমনামি’৷ তবে শুধুই সেরা ছবি নয়, সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপটেড)-এর পুরস্কারও পেয়েছে সৃজিতের এই ছবি৷ এই ছবিতে নেতাজির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷ সাথে ছিলেন অনির্বান ভট্টাচার্য ও তনুশ্রী চক্রবর্তী ৷ গুমনামি ছবির কাহিনী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে ঘিরে। এই ছবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে অনেক। তবে সেই বিতর্ককে সঙ্গে করেই পরিচালক সৃজিত তৈরি করেছিলেন গুমনামি৷ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে থেকেই সমালোচনায় পড়েছিলেন সৃজিত৷ তিনি বলেন, ‘এই ছবি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক উঠেছিল৷ প্রতিবাদও হয়েছিল প্রচুর৷ সেসব আর মনে রাখিনি৷ এখন খুবই আনন্দ হচ্ছে৷ আনন্দটা গোটা টিমের৷’

নিজের অনুভূতির কথা তার টুইটার অ্যাকাউন্টে সাত পুরষ্কারের ছবি সহ পোস্ট করে সৃজিত বলেন, অবশেষে একাধিক জাতীয় এবং বিএফজেএ পুরস্কারের পরে এক্সক্লুসিভ ব্ল্যাক লেডি ব্যক্তিগতভাবে আমার বাড়িতে পৌছোলো।

সম্প্রতি সৃজিত মুখোপাধ্যায় অটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের জন্য একটি সিরিজ নির্মান করেছেন। সিরিজটির নাম “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি”। এই সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের চঞ্চল চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, কলকাতার পরমব্রত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য, রাহুল বোস সহ আরো অনেকে। সিরিজটি খুব তাড়াতাড়ি হইচই এ রিলিজ হবে। এছাড়াও সৃজিত মুখোপাধ্যায় ব্যস্ত আছেন তার নতুন ছবির চিত্রনাট্য এর কাজে। অচিরেই নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *