করোনায় ’ত্রাণকর্তার’ ভূমিকায় প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা

তানভীর সিদ্দিক টিপু
কোভিড-১৯ ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবনকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা কারও অজানা নয়। এই চরম অনিশ্চয়তা এবং নিরন্তর ভয়ের সময়ে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করেছে। এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারি এড়ানো সম্ভব না হলেও, সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে প্রযুক্তি।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯১টি দেশে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরাসরি প্রায় ১.৫ বিলিয়ন শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রভাবিত করেছে। মহামারীর কারণে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যহত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের কোর্স সরবরাহ করতে শুরু করেছে। দূরবর্তী শেখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি, থ্রিডি প্রিন্টিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে সক্ষম রোবট শিক্ষকরাও।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ক্যারিয়ার ক্লাব আয়োজিত অনলাইন আলোচনায় কথা বলছেন বিভিন্ন টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার।

কন্টেন্ট বা উপকরণ তৈরি থেকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর পুরো ধারনাকেই বদলে দিয়েছে করোনার এই নতুন জীবন। লাইভ শো এবং কনসার্টের অনলাইন স্ট্রিমিং বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের সিনেমা রিলিজ করছে যেমন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, হটস্টার, নেটফ্লিক্স, জি৫, হইচই, ভুত সিলেক্ট ইত্যাদি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

প্রযুক্তি মানুষকে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার কথা মনে করিয়ে দিতেও সহায়তা করছে। টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ইত্যাদি টেলিকম অপারেটররা মহামারী সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কলার টিউন ব্যবহার করছে।

গ্রাহকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে অনলাইন বাজার মহামারীর সময় দুর্দান্ত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ বাজারে যাওয়ার থেকে এখন অনলাইনেই তাদের কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

গুগল, ফেসবুকের মতো সংস্থাগুলো মানুষ যাতে কেবল সঠিক এবং যাচাইকৃত তথ্য পায় তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজলভ্য করা যাতে পুরো দৃশ্যপটের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকে।

প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়িতে থেকে কাজ করছে মানুষ। বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম অনলাইনেই পরিচালনা করছে। ইন্টারনেট, তথ্যের নিরাপত্তা, ভার্চুয়াল মিটিং, ক্লাউড কনফারেন্সিং ইত্যাদি পেশাদারদের সহজেই বাড়িতে থেকে কাজ করার জন্য নিজেদের মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

প্রযুক্তির এই ব্যবহার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অনেকাংশে সহজ করেছে। তবে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশগুলোতে জনসংখ্যার একটা বড় অংশই এইসব সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতারণাও কম নয়। অনলাইনে ভুয়া আইডি খুলে শত শত মানুষের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো প্রতারণাও হয়েছে। আবার অনলাইনে এক ধরনের পণ্যের অর্ডার নিয়ে ভিন্ন পণ্য পাঠানোর মতো প্রতারণাও হয়েছে। ফেসবুককেন্দ্রিক প্রতারণাও ঘটছে অহরহ। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনলাইনে প্রতারণার তদন্তে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। অনেক প্রতারক গ্রেফতারও হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *