ছালছাবিলা বিনতে মনজুর:
আগামীকাল (১৪ এপ্রিল, বুধবার) থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলে বিধি-নিষেধসহ কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এসময় বন্ধ থাকবে সব সরকারি-আধাসরকারি, বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া চলবে না কোন ধরণের পরিবহন।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১৩ ধরণের নির্দেশনা দেয়া হয়। বলা হয়, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত এ নির্দেশনাগুলো কার্যকর থাকবে। এসব বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লকডাউনে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তবে, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের বাজার।
প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালসহ জরুরী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তা চালু রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জুমা ও তারাবির নামাজের জামাত বিষয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দেবে, তা মানার জন্য বলা হয়েছে নতুন জারি করা আদেশে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
১. সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
২. সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ-নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবে তবে বিমান সমুদ্র ও স্থলবন্দর ও তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞা আওতাবহির্ভূত থাকবে।
৩. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৪. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, বিমান) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবা এ আদেশের বাইরে থাকবে।
৫. শিল্প কারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।
৬. অতি জরুরি প্রয়োজন (ওষুধ ও পণ্য, চিকিৎসা, লাশ সৎকার) ব্যতিত কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
৭. খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা- থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয় ও সরবরাহের জন্য খোলা রাখা যাবে।
৮. শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
৯. কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের বাজারে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
১০. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।
১১. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবির নামাজের জামাত বিষয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে, তা মানতে হবে।
১২. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন এ সমস্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাতে সহায়তা করবে।
১৩. আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি), খাদ্য শষ্য ও খাদ্য দ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা (কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদান), বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহ, টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবা, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৯ শে মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াতে সরকার সারা দেশে গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে শুরু করে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে। যা আরো দুই দিন বর্ধিত করা হয়।
