দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে পরিণত হয়েছে মাওয়া এক্সপ্রেস হাইওয়ে

বাংলাদেশ সারাদেশ

শুভ বর্মণ:
বাংলাদেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা সড়কে গত ১৪ মাসে অন্তত ৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে মারা গেছেন ৬৫ জনেরও বেশি মানুষ। অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিং, উল্টোমুখি যান চলাচল, গরু-ছাগল-কুকুরের প্রবেশ, পথযাত্রীর রাস্তা পারাপার ইত্যাদির সাথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠা নামাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া, সেখান থেকে পদ্মা সেতুর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটি গত বছরের মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হয়েছে। কিন্তু একমুখী প্রশস্ত সড়ক, ফ্লাইওভার, অ্যান্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ, ধীরগতির গাড়ির জন্য আলাদা রাস্তা, দ্রুতগামী গাড়ির জন্য চারলেন, ছোট গাড়ির জন্য আরো চারলেন-কোনো কিছুরই কমতি রাখা না হলেও দুর্ঘটনার হটস্পট হচ্ছে এই হাইওয়ে।

এক্সপ্রেসওয়েটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে ওঠার দায় নকশাগত ত্রুটির উপর চাপাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যারিয়ার সঠিকভাবে না বসানো, যেখানে-সেখানে যাত্রী উঠানো-নামানো, রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ না রাখা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোকে দায়ী করা হচ্ছে। মানা হচ্ছে না ৮০কি.মি/ঘণ্টার গতিসীমা।

ঢাকা-মাওয়া হাইওয়েতে ক্রমশ বেড়ে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েটিতে বেশিরভাগই পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দেখা যায়। অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করলে দেখা যাবে, বেপরোয়া ও উচ্চ গতিসীমায় গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, হাইওয়েতে মানুষের চলাচল ইত্যাদির ফলেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এর পাশাপাশি হাইওয়েতে বাস-বে থাকার কারণে যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো-নামানো, লাইসেন্স বিহীন গাড়ি হাইওয়েতে উঠানোর কারণেই হাইওয়েতে বড় রকমের দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, যদি সকল দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হয়, ‘তবে পথচারীদের সংখ্যায় বেশি দেখা যাবে। পাশে আন্ডারপাস থাকলেও কেউ তা ব্যবহার করে না বরং রেলিং টপকে হাইওয়ের উপর দিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। কিন্তু হুটহাট পথচারীদের হাইওয়েতে ঢুকে পড়া দ্রুতগতিতে থাকা চালকদের পক্ষে লক্ষ করা সম্ভব হয় না এবং তখনই দুর্ঘটনাগুলি ঘটে। এটিকে এখনও আমরা এক্সপ্রেসওয়ে বলতে পারি না। কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে। পদ্মা সেতু চালু হলে একেবারে এক্সপ্রেস হয়ে বলতে যা বোঝায়, তার সব অবকাঠামো প্রস্তুত হয়ে যাবে।’ তখন দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, এই সড়কে এখনো কোনো শৃঙ্খলা নেই। যেখানে-সেখানে যাত্রী উঠানো-নামানো হয়। আর প্রায়ই বিভিন্ন বাস চলে প্রতিযোগিতা করে। এতে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চালকরা।

একের পর এক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১মার্চ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে হাঁসাড়া এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, পদচারী সেতু না থাকায় এক্সপ্রেসওয়ে পারাপার হতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এর জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটে পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক ও জনপথ (সওজ)অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘এক্সপ্রেসটিতে নতুন করে আরো ১৬টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটেও একটি পদচারী-সেতু নির্মাণ করা হবে।’ যেসব জায়গায় বাস স্টপেজ রয়েছে তার সবগুলোতেই ওভারব্রিজ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *