‘২০২৩ সালে এসেও শ্রমিকরা শান্তিতে নেই’

বাংলাদেশ

রিদিতা সাহা

প্রতি বছর ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে নিহত শহিদদের আত্মত্যাগকে মনে রেখে এই দিনটি পালিত হয়। ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্বের প্রায় ৮০-র বেশি দেশে এই দিনটি পালিত হয়। বিশ্বের সব দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য ভাবে পালিত হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস নিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র সৌরভ সরকার মনে করেন ‘মে দিবস হচ্ছে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও অধিকার আদায়ের একটি বিশেষ দিন। শ্রম ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়, শ্রমের মর্যাদা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, কাজ লজ্জার নয়, প্রতিটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে তাহলে, শ্রমিকরা আপনাদের কাজকে সহজ করে দেবে। মানুষ যখন কৃষি থেকে বিচ্যুত হয়ে শিল্পে এসেছে তখন থেকে পুঁজিপতিরা ক্ষুদ্র থেকে দ্রুতই বড় হতে শুরু করে। তার পর থেকেই কৃষকরা শ্রমিক হতে থাকে। কথাই আছে না শ্রমের মর্যাদা অপরিসীম।’

‘মে দিবস যতই এগিয়ে আসছে, সারা বিশ্বের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে বিভিন্ন চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি আরও এগিয়ে আসছে। কেউ কেউ এটিকে শ্রমিক শ্রেণির অর্জন এবং তাদের কর্মক্ষেত্রের উন্নতির জন্য সংগ্রাম উদযাপন করার একটি সুযোগ হিসাবে দেখতে পারে, অন্যরা এটিকে আয় বৈষম্য এবং শ্রমিকদের অধিকারের মতো চলমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। কিছু ছাত্রদের জন্য, মে দিবসটি সম্মিলিত কর্মের শক্তি এবং যারা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছে তাদের সাথে একাত্মতার সাথে দাঁড়ানোর গুরুত্বের অনুস্মারক হিসেবেও কাজ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, মে দিবসটি প্রতিফলন, সক্রিয়তা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের জন্য আশার সময় হতে পারে।’ জানান স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনুভা হাসান।

আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত পাল মনে করেন, ‘শ্রমিকদের কারণেই আমাদের জীবন দিন দিন অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমাজে তারা অনেকটাই অবহেলিত। আমাদের উচিত তাদের পাশে থাকা। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আরো দক্ষ করে তোলা। তাদের অধিকার রক্ষায় সাহায্য করা। শ্রমিকরা যাতে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিয়ে খেয়াল রাখা।’

‘২০২৩ সালে এসেও শ্রমিকরা শান্তিতে নেই। এখনও সামাজিক গণমাধ্যমে অনেক জায়গায়ই দেখা যায় শ্রমিকদের মারধর এর ভিডিও চিত্র। এছাড়াও শ্রমিকদের বেতন দেওয়া, বেতন বাড়ানো নিয়েও হয় অনেক আন্দোলন। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেশি বিপাকে। হয়তো অনেক শ্রমিক জানেই না যে এই শ্রমিক দিবস মানে কি? অথবা এই পয়লা মে ছুটি কিসের? যেটা ২০২৩ সালে এসেও আমাদের জন্যে লজ্জাজনক ব্যাপার।তাই শুধু এই শ্রমিক দিবসেই নয় সবসময়েই শ্রমিকের সাথে ভালো আচরণ, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শ্রমিকের বেতন এবং সুবিধা অসুবিধা নিয়ে ভাবা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য’ বলেই মনে করেন জোনায়েদ খান সীমান্ত।

শ্রমিক দিবসনিয়ে বলতে গিয়ে মোঃ শাহাদাত হোসেন রাহাদ জানান, ‘শ্রমিক দিবসের ইতিহাস আমরা কম বেশি সবাই জানি।একজন ছাত্র হিসেবে আমার পুরো শ্রম আমি শিক্ষাক্ষেত্রে দিয়ে থাকি। সে হিসেবে আমিও একজন শ্রমিক। কিন্তু আমাদের সমাজে শ্রমিকদেরকে আলাদাভাবে সঙ্গায়িত করা হয়। যারা কায়িকশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে তাদেরকে শ্রমিক হিসেবে গন্য করা হয়। আবার অনেকাংশে কিছু ব্যক্তি কাজের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে।যেটা একজন মানুষ হিসেবে খুবই নিচু মনমানসিকতা পরিচয় দিয়ে থাকে। সব কাজকেই সমান ভাবে দেখা উচিত। ছোট বড় সব কাজের অবদানের ফলে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড গড়ে উঠেছে। তাই এ শ্রমিক দিবসে আমার চাওয়া সব শ্রমিকদের যেনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় এবং তাদের ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করা হয়। কর্পোরেট অফিসের প্রধান নির্বাহী শ্রমিক থেকে শুরু করে সব স্থরের খেটে খাওয়া মানুষদের জানাই শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা।’

ছবিঃ আল আমিন তুষার, তানভীর সিদ্দিক টিপু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *