হাসিব আবেদীন
ঢাকা মহানগরের বাতাসে উদ্বেগজ্জনক হারে বাড়ছে ধূলার মাত্রা। ৭০টি স্থানে সহনীয় মাত্রার চেয়ে সাড়ে পাঁচ গুনেরও বেশি ধূলা থাকার প্রমান পেয়ছে বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। আজ (২০ মার্চ) সকালে, ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা) এবং ক্যাপস এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মাদ আলী নকীর সভাপতিত্বে ক্যাপস এর পরিচালক ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামারুজ্জামান মজুমদার এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
আরও বক্তব্য রেখেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাসমী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, স্থপতি ইকবাল হাবিব এবং বায়ু, শব্দ ও দৃষ্টি দূষণ কমিটির সহ-আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে ঢাকায় দিনে ২৫০০ মেট্রিক টন ধূলা উড়ছে, যার মধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন সবুজ পাতায় জমছে। আর ২০২০ সালে ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ধূলা জমেছিল ৭৭.১ মাইক্রোগ্রাম। এই মাত্রা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মাত্রার (প্রতি ঘনমিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে ৫.৫ গুন বেশী।
গবেষনায় আরও জানানো হয়েছে যে ২০২০ সালে গত বছরের তুলনায় বায়ু দূষণের মাত্রা ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে শিল্পাঞ্চলে আবাসিক এলাকার চেয়ে বেশি ধূলা জমেছে।
বায়ুদূষণ প্রতিরোধে বক্তারা ব্যক্তিগত সুরক্ষায় উন্নত মাস্ক ব্যবহার করার সুপারিশ করেছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস এবং ওয়াসা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শহরে পানি ছিটিয়ে ধূলা পরিস্কার করার জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মান সামগ্রী ঢেকে রাখা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া ও সাকশন ট্রাকের মাধ্যমে ধূলা মুক্ত করার কথা বলেছেন।
নগরীতে ধূলা কমাতে সরকারী ও বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও ছাদ বাগান করা, জলাশয় রক্ষা করা ও সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন নির্মানের পরামর্শ দিয়েছেন বক্তরা। এছাড়া, অতি দ্রুত নির্মল বায়ু আইন ২০১৯ কার্যকরের জোর দাবি জানান তারা। বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকরী করে আরও বাজেট বরাদ্দ করা দরকার। প্রতি উপজেলায় পরিবেশ কর্মকর্তা দিতে পাব্লিক সার্ভিস কর্তৃক বিসিএস এ পরিবেশ ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে।
