জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা’ শীর্ষক সেমিনার

বাংলাদেশ শিক্ষা

ফারিহা তাবাসসুম
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ধরণের গবেষণা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই যুদ্ধ শেষ হবার পরই হবার কথা ছিল। তাতে, অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সহজ হত। শনিবার, (১৩ মার্চ ) জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা’ শিরোনামের এক ওয়েবিনারে এমন কথাই বললেন বক্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্যযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক ছোটন দেবনাথ। এসময়, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত ‘বরইতলা গণহত্যা’ নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ তুলে ধরেন তিনি।

ছোটন দেবনাথ বলেন, ১৯৭১ সালে ২০ এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনী কিশোরগঞ্জের বরইতলায় ২৬৫ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। তিনি আরো বলেন, সেই দিনের কথা মনে হলে এখনও ভয় পান কিশোরগঞ্জের ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এসসময়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকেরা বিভাগের চেয়ারম্যান শরীফা শিরিন জানান, শেরপুরের একটি এলাকা এখনও বিধবাপল্লী নামে পরিচিত, যেখানে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় সব পুরুষকে হত্যা করেছিল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক সুরাইয়া আক্তার দাবি জানান, বাঙ্গালি জাতির উপর সংগঠিত গণহত্যাকে শুধু জাতীয় নয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ।

ওয়েবিনারে জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি মেসবাহ কামাল বলেন, ‘মৃত্যুর পর যেখানে আমরা দাফনের জায়গা চাই, সেখানে হাজার হাজার মানুষকে কবর না দিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা যে কত কষ্টের ঘটনা বলার অপেক্ষা রাখে না।’ তিনি জানান, এক সরকারি তথ্যে দেখা গেছে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বন্ধভূমি রয়েছে।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্য দিয়ে ওয়েবিনার শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *