বাংলাদেশী দাবার রাণী ‘রাণী হামিদ’

ক্যারিয়ার খেলা ফিচার বাংলাদেশ বিনোদন

সজনাত বিনতে ছোঁয়া- ৭৯

দাবা, বিশ্বের প্রাচীনতম খেলাগুলোর মধ্যে একটি। দাবা, একটি জনপ্রিয় খেলা যা বোর্ড বা ফলকের উপর খেলা হয়। বোর্ডে বর্গাকৃতি ৬৪টি সাদা-কালো ঘর থাকে। দেড় হাজার বছর আগে ভারতবর্ষে শুরু হয়েছিল দাবা খেলা। ভারত থেকে সময়ের পরিক্রমায় খেলাটি ছড়িয়ে পড়ে ইরানে। এরপর দাবা খেলার চর্চা শুরু হয় দক্ষিণ ইউরোপে। আধুনিক দাবার শুরু সেখানেই। যিনি দাবা খেলেন তাকে দাবাড়ু বলা হয়। এতে দুজন খেলোয়াড় বা দাবাড়ু অংশ নেয়। বোর্ডের ওপর সাজানো ঘুঁটি চাল দিয়ে বিপক্ষের রাজাকে ফাঁদে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।দাবার ভাষায় যাকে বলে “কিস্তিমাত”। প্রতিদ্বন্দ্বী দুজনই নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে বুদ্ধি দিয়ে রাজা, মন্ত্রী, হাতি, ঘোড়া, নৌকা ও বোড়ে ঘুঁটির মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রায় এক যুদ্ধেই অবতীর্ণ হয়। দাবা খেলায় পারদর্শীতার সর্বোচ্চ স্বীকৃত পর্যায় বা লেভেল হচ্ছে গ্র্যান্ড মাস্টার। আর যারা দাবা খেলেন তাদের বলে দাবাড়ু।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে সদ্য অনুষ্ঠিত দাবা অলিম্পিয়াডের নবম রাউন্ডে জয় পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন একজন বর্ষিয়ান বাংলাদেশী দাবাড়ু। দাবাই যার ধ্যান, দাবাই যেন তাঁর জীবন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার। প্রায় ৪০ বছর ধরেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন এই ৮২ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক নারী মাস্টার। ১৯৭৯-১৯৮৪ সালের মধ্যে তিনি জয় পেয়েছিলেন এক এক করে, টানা ছয়টি রাউন্ডে ! তিনি দাবাড়ু রাণী হামিদ। পুরো নাম সৈয়দা জসিমুন্নেসা খাতুন। শৈশব থেকেই তাঁর দাবার বোর্ডের প্রতি দারুণ ঝোঁক ছিল। ঝোঁকটা আরও বেড়েছিল তাঁর বাবা মমতাজ আলীকে প্রতি সন্ধ্যায় বন্ধুদের নিয়ে দাবা খেলতে দেখে। স্কুলজীবনে ভালো ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও এ্যাথলেট হওয়া সত্ত্বেও রানীর প্রধান ভালবাসা ছিল দাবাই। রাণী হামিদ পেশাদারী দাবা খেলা শুরু করেন বিয়ের পর। খেলাধুলার প্রতি তার স্বামী মোহাম্মাদ আব্দুল হামিদের আগ্রহ ও উৎসাহ থাকায় তিনি দাবা খেলার প্রতি জোর দেন।

তিনি দাবা খেলতে ভালোবাসেন, উপভোগ করেন। দাবা খেলা নিয়ে তাঁর কোনো প্রেরণার ঘাটতি নেই। তিনি এখনো পারফর্ম করছেন যার মূল কারণ তিনি এই খেলাটাকে ভালোবাসেন। তাঁর মতে, তিনি দাবা খেলেন মজার জন্য। প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবেন না। কখনো জানেনই না তাঁর প্রতিপক্ষ কে আছে। তিনি ব্রিটিশদেরকেও দাবায় হারিয়ে মোট পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। জাতীয় মহিলা দাবার পাশাপাশি জাতীয় দাবাতেও রয়েছে রানী হামিদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। রাণী হামিদ ছিলেন দাবা অলিম্পিয়াডে ৫ম মহিলা যিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে অলিম্পিয়াডে জাতীয় পুরুষ দলের হয়ে খেলেছেন। ২০০৬ পর্যন্ত তিনি মোট ১৫ বার জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছেন। কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশীপ ২০১৫তে রাণী হামিদ বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেছেন। জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা দাবাড়ুদের মধ্যে রানী হামিদই একাধিকবার খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং দেশের বাইরেও রানী হামিদের নাম অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের দাবার জগতে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *