ফিচার বাংলাদেশ সারাদেশ

সানজিদা পারভীন- ৭২

 

দুঃসাহসিকের কথা

কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতন, পুরো আন্দোলন জুড়ে সরব ছিলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হামলা, গুলি চালিয়েও দমন করা যায়নি তাদের। এমনই কয়েকজন সাহসী শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সানজিদা পারভীন।

শাহিদা খান
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

নারী হয়েও পুলিশের থেকে রক্ষা পাননি শাহিদা খান । অন্যান্য দিনের মতোই ৫ই আগস্ট আন্দোলনের জন্য বের হন শাহিদা । মিরপুর, কাফরুল হয়ে যোগ দেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে। সেখানেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হঠাৎ লাঠি চার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সমানে গুলি বিদ্ধ হন তিনি। সেদিনের ভয়াবহ ঘটনা জানান শাহিদা। তিনি বলেন, “পুলিশের লাঠি চার্জে আমার হাতের আঙুল ভেঙে যায়। এমন অবস্থায় আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয় নেই। সেখানে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমার মাথায় ও হাতে গুলি লাগে। পরে এক্সরে রিপোর্টে দেখা যায় আমার শরীরে ৮৬ টি স্পিন্টার রয়েছে। ”

 

নূর হাসান,নুসরাত নূর
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

নুসরাত হয়ে উঠেন প্রতিরোধের প্রতীক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নুসরাত নুরের পুলিশের গাড়ির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর একটি৭ ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের যখন নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় তখন পুলিশের গাড়ির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান নুসরাত নুর। আন্দোলনকারী সহপাঠী ও বন্ধুদের ছাড়িয়ে নিতে নুসরাতের যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন তার প্রশংসা চলছে চারদিকে।

 

খায়রুল আলম
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

এখনো মৃত্যুর সাথে লড়ছে খায়রুল সবাই যখন স্বৈরাচার পতন উপভোগ করছি ঠিক তখন এই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ এখনও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তাদেরই একজন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খায়রুল আলম। ক্ষমতা পতনের আগ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তান্ডব চালিয়েছে সাধারণ ছাত্রদের উপর। ৫ আগষ্ট সেই তান্ডবের বলি হন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খায়রুল। স্বৈরাচার পতনের পরও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *