উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের পথিকৃৎ নির্মাতা হীরালাল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১৭ সালের ২৯শে অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ১৮৮৬ সালে মানিকগঞ্জের বকজুরী গ্রামে।
ছোটবেলায় একদিন তাঁর ভাই দিনেশ তাকে ‘ছায়াবাজি’ দেখিয়েছিলেন। আর সেই ‘ছায়াবাজি’ হীরালাল সেনকে খুব অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে থাকেন। এরপর, ১৮৮৩ সালে হীরালাল যখন কলকাতায় পড়তে যান তখন তার ক্যামেরা কেনার প্রবল ইচ্ছে জাগে। তারপর মায়ের কাছ থেকে আবদার করে টাকা নিয়ে ক্যামেরা কিনেন। পত্রিকায় একদিন হীরালাল সেন কিনেটোগ্রাফ সম্পর্কে জানতে পারেন যার মাধ্যমে ছবি মুভ করা সম্ভব। তিনি এই পদ্ধতি শিখতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন।
এরপর ১৯০০ সালে লন্ডন থেকে মুভি ক্যামেরা ক্রয় করেন এবং সেই ক্যামেরা দিয়েই তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘A Dancing Scene From Opera’ নির্মাণ করেন। হীরালাল সেন কোলকাতায় Royal Bioscope Company প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বায়োস্কোপের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে সচল ছবি দেখাতেন। হীরালাল সেনের হাত ধরেই বাঙলার বুকে শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্র যাত্রা।
তিনি আমাদের ‘A Dancing Scene From Opera’, ‘বাঙালী দেবর’, ‘জেলের ছেলে’ এবং Vagabond এর মত বেশ কিছু চলচ্চিত্র উপহার দেন। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি কঠিন আর্থিক সংকটে নিঃস্ব এবং একা হয়ে পড়েন। একদিন অসুস্থতার জন্য প্রিয় ক্যামেরা বন্ধক রেখে নিজের চিকিৎসা করাতে হয়েছিল। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি আলীবাবা প্রদর্শনীর জন্য ছবি এঁকেছেন এবং রঙিন ফ্রেম করেছেন।
হীরালাল সেনের জীবনী থেকে জানা যায়, তাঁর শেষ জীবন অনেক অর্থকষ্টে কেটেছে। যে ক্যামেরা কিনতে এত তপস্যা করেছেন, সেই প্রিয় ক্যামেরাটা বিক্রি করে ফেলতে হয়েছিল এবং সেই তীব্র যন্ত্রনাদায়ক অনুভূতি তাকে সহ্য করতে হয়েছিল। একদিন হীরালালের বাসায় আগুন লেগে তার সকল শিল্পকর্মগুলো পুড়ে যায়, আর সেই যন্ত্রণাও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল।
লেখক: মেহেরা রহমান সিমরান,শিক্ষার্থী, ৭৭তম ব্যাচ, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।
