তুষার আহমেদ:
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। করোনা অতিমারীর কারণে তখন সব বন্ধ। বাইরে বের হবারও খুব একটা সুযোগ ছিল না। এ স্তব্ধ সময়ে, জীবনের একটা নতুন দিক খুলে যাবে, ভাবতে পারেন নি, শিল্পা চক্রবর্তী। তবে তাই ঘটেছে।
অলস সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন ৩০ টাকা মূল্যের একটি কাঠি। আর এটা দিয়ে বুনতে শুরু করলেন উলের জাম্পার, সোয়েটার, টুপি। আর যেহেতু বাইরে যাবার সুযোগ ছিলনা, তাই পুরনো উলের জামা থেকে সংগ্রহ করেন সুতা। আর সেটা থেকেই তৈরী করেন নতুন পোশাক। পুরোটাই হাতে তৈরী এ উলের কাপড় বুনতে তার সময় লাগতো তিন দিনের মত।
‘আমার পরিবারের সবাই উলের তৈরিকৃত জাম্পার এবং সোয়েটার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু একটা সময় ভাবলাম, আশেপাশের প্রতিবেশী এবং আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে একটু একটু করে বিক্রিও তো করা যায়।’ এভাবেই তার উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর গল্প বলছিলেন শিল্পা চক্রবর্তী।
কঠোর পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে ধানমন্ডি একতা কলোনির ঘরে বসে একটি ক্ষুদ্র স্টার্টাপ পরিচালনা করছেন। যাতে তার মাসিক আয় প্রায় বিশ হাজার টাকা। মানুষের চাহিদা পূরণ করছেন পাশাপাশি নিজের ব্যবসাকে নিয়ে যাচ্ছেন সফলতার গন্তব্যে।
এলাকার মানুষ জানান, শিল্পা চক্রবর্তীর তৈরিকৃত উলের কাপড় কিনতে এখনই রীতিমতো হইচই লেগে যায়। তবে, চেনা পরিচিত গন্ডি ছাড়িয়ে নিজের ছোট্ট ব্যবসাকে আরো বড় করার স্বপ্ন দেখেন শিল্পা চক্রবর্তী। বললেন, ‘অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতে জায়গা করে নেওয়ার কথা ভাবছি। কারন, প্রযুক্তির কল্যাণে এখন মানুষ ঘরে বসেই কেনাকাটা করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।’
তবে শুধু, উলের গরম কাপড় নয়, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী যেমন, টেবিল দস্তক, হাত ব্যাগসহ বাচ্চাদের খেলার সরঞ্জাম তৈরীতেও ধীরে ধীরে মন দিচ্ছেন নতুন এই উদ্যোক্তা। তিনি মনে করেন, পরিবার ও চারপাশে মানুষদের সমর্থন পেলে প্রত্যেকটা নারীর ঘরে ঘরে তৈরি হতে পারে সফলতার গল্প ।
