ভূপেন হাজারিকার নবম প্রয়াণদিবস আজ

শিল্প-সাহিত্য

তাজবিহ স্মরণ
উপমহাদেশের সঙ্গীতে মানবিক গানের পথিকৃৎ ভূপেন হাজারিকার নবম প্রয়াণদিবস। ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ভারতীয় সংগীতের এই পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

বাংলা ভাষাভাষী পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে জনপ্রিয় ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গানটি বিবিসির শ্রোতা জরিপে সর্বকালের প্রথম ১০টি জনপ্রিয় গানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিল।

পিতা নীলকান্ত হাজারিকা ও মা শান্তিপ্রিয়া হাজারিকার ঘর আলো করে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে গান লিখে সুর দিতে শুরু করেন দরাজ কন্ঠস্বর ও কোমল ভংগিমার জন্য বিখ্যাত এই শিল্পী।

১৯৩৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘ইন্দুমালতী’ নামক অসমিয়া চলচ্চিত্রের একটি গানে কন্ঠ দেন তিনি। অসমিয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা,হিন্দিতেও সমান পারদর্শী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ভূপেন হাজারিকা।

প্রেম, প্রকৃতি, সমাজ বা রাজনীতি থেকে উপমার ব্যবহার করে তিনি তার স্বরচিত গানকে করে তুলতেন কাব্যময়। এর পাশাপাশি অসমিয়া চলচ্চিত্র পরিচালনা করে বাংলাদেশ ও ভারতে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

১৯৫২ সালে নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন ভূপেন হাজারিকা। আর সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরষ্কার, পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন গুনী এই শিল্পী।

তার গানগুলোর মধ্যে ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’, ‘আমি এক যাযাবর’, ‘আমায় ভুল বুঝিস না’, ‘একটি রঙ্গীন চাদর’, ‘ও মালিক সারা জীবন’, ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘প্রতিধ্বনি শুনি’, ‘বিস্তীর্ণ দুপারে’, ‘মানুষ মানুষের জন্যে’, ‘সাগর সঙ্গমে’, ‘হে দোলা হে দোলা’, ‘চোখ ছলছল করে’ ইত্যাদি খুব জনপ্রিয়।

প্রয়াণ দিবসে ভূপেন হাজারিকাকে গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় স্মরণ করছে তার অগণিত শ্রোতা ও ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *