‘মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা’

ফিচার ভ্রমণ

সানজিদা পারভীন :
‘কারণে-অকারণে ছুটে চলে আসতে ইচ্ছে করে এই তিস্তা ব্যারেজে। খুব প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই, মন খারাপ থাকলেই ঘুরতে চলে আসি।’ তিস্তা ব্যারেজে আসার কারণটা এভাবেই বলছিলেন মাহিন নামের এক দর্শনার্থী। আর স্বপরিবারে ঘুরতে আসা তন্ময় বলেন,‘নদী, সবুজ, পাখ-পাখালি আর সাথে শীতের হিম হাওয়া, সব মিলিয়ে দারুন জায়গা। যদিও এবার অতিথি পাখির দেখা মেলেনি।’

শুধু শীত নয়, বছর জুড়েই দর্শনার্থীদের একটি প্রিয় জায়গা লালমনিহাটের তিস্তা ব্যারেজ। গ্রামীন নির্জনতা আর সবুজের সমারোহের সাথে তিস্তা নদী বরারবরই টানে ভ্রমনপিপাসুদের। কৃষিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি, তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ব্যারেজকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সম্ভবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্কুল -কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকের আগমন ঘটে এখানে। সরেজমিনে তিস্তা ব্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, নদীর ডান তীরের বাঁধে কিংবা চরে বসে কেউ পরিবারের সদস্য নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে বসে গল্প আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন। আবার অনেকে নৌকায় চড়ে ঘুরছেন। এছাড়া জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যও উপভোগ করছেন অনেকে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীতের মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষা সফরে আসেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এর বাইরেও পরিবারের সদস্য, বন্ধুদের নিয়ে বনভোজনে এখানে আসেন অনেকে। ঈদ ও পূজোর ছুটির দিনগুলোতে এখানে মানুষের বেশ ভিড় জমে। তবে, ভালো টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকা ও ভালো মানের খাবারের হোটেল না থাকায় দর্শনার্থীদের বিপাকে পড়তে হয়।

তিস্তা ব্যারেজ ঘুরতে আসা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমি জানান, ‘দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তিস্তা ব্যারেজ আসা সহজ। রাজধানী ঢাকা থেকে নীলফামারী বাসে ডিমলা এলাকায় বা লালমনিরহাটগামী বাসে হাতীবান্ধা বড়খাতা এলেই খুব কাছে এই তিস্তা ব্যারেজ।’ লালমনিরহাট সদর হতে অথবা হাতীবান্ধা উপজেলা হতে সড়কপথে তিস্তা ব্যারেজে যাওয়া যায়। হাতীবান্ধা উপজেলা সদর হতে সড়কপথে এর দূরত্ব ২০ কি.মি.।

তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা ব্যারেজ একটি সংরক্ষিত এলাকা। এখানে চলাফেরা একটু বিধি-নিষেধ আছে। তারপরও সব সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ তিস্তা ব্যারেজ দেখতে আমরা ভ্রমণ পিপাসুদের সুযোগ দিয়ে থাকি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তিস্তা ব্যারেজ এলাকাটিকে দৃষ্টি নন্দিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।’

লেখক: শিক্ষার্থী, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *