তানভীর সিদ্দিক টিপু
ছোট্ট সজারু থেকে বনের রাজা বাঘ, সবার দেখাই মিলবে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। খাঁচায় বন্যপ্রাণীর সাথে একুরিয়ামে বন্দী হরেক প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের দেখাও মিলবে এখানে। এই চিড়িয়াখানাতেই দেখা হলো আশু চন্দ্র শীল- এর সঙ্গে। প্রাকৃতিক মাছের বিলুপ্তি রোধ করতে তিনি জনসাধারণকে সচেতন করছেন। উদ্বুদ্ধ করছেন মাছের প্রজনন বাড়াতে।
সম্পূর্ণ নিজ খরচে ‘প্রাকৃতিক মাছের বিলুপ্তির কারণ সংবলিত একটি লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। দীর্ঘ ২১ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে আশু চন্দ্র শীল দেশে ফিরেছেন তিন বছর আগে। ফিরে দেখেন দেশে দেশীয় মাছের সংকট চরমে। নিজের সন্তানদের জন্য দেশীয় মাছের যোগান দিতে পারছেন না। তার ভাষায়, বাজারে যে মাছ পাওয়া যায় তার অধিকাংশই বিদেশি ও হাইব্রিড জাতের। জলাশয়গুলো থেকে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে।

তখন থেকে দেশীয় মাছের প্রজনন বাড়াতে গত তিন বছর যাবত সচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে বাস- ট্রেন সহ বিভিন্ন গণ-পরিবহণে ও জনবহুল এলাকায় বিলি করছেন তিনি। পাশাপাশি মাছের ছোট পোনা কিনে মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করছেন। আশু চন্দ্র শীল মনে করেন, প্রাকৃতিক মাছ বিলুপ্তির প্রধান কারণ বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ মাসে পোনা মাছ ধরে ফেলা। প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দেয় মাছ। মাত্র ২০০ গ্রাম শোল মাছের পোনা পাঁচ মাস পর নয় মণ মাছ হয়, যা প্রায় ১,৪০০ মানুষ খেতে পারে। সবাইকে তিনি পোনা এবং ডিমযুক্ত মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। জাটকা ইলিশকে ‘না’ বলতে বলছেন।
মুক্ত জলাশয়গুলাকে প্রাকৃতিক মাছে পরিপূর্ণ হওয়ার সুযাগ করে দিতে সবাইকে আহ্বান করে আশু চন্দ্র বলছেন, ‘আপনার সন্তানের পুষ্টি সুরক্ষায় নিজে দায়িত্ববান হোন। আপনার আদরের সন্তান আমাদের সোনালী ভবিষ্যৎ। তাই দেশ মাতৃকার টানে এই বিজ্ঞাপনটি কয়েকটি কপি করে, আপনার এলাকায় প্রচার করুন। এই দেশটা আমাদের, বিদেশে যতই থাকিনা কেনো এই দেশে আমাকে ফিরে আসতে হবে। দেশের প্রতি আমারও দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব থেকে আমি স্বেচ্ছায় দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস আমাকে দেখে অন্যরাও দেশীয় মাছ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।’
লিফলেটের নিচের অংশে দেশীয় মাছ রক্ষায় তাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য দেওয়া হয়েছে মোবাইল নম্বর ও তার নিজের ফেসবুক আইডি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের গোলখার গ্রামের তিনি স্থায়ী বাসিন্দা।
