ডা. হাসান মাহমুদ:
রিকশা। আমাদের পরিবহন ব্যবস্থার অপরিহার্য কিন্ত অপরিকল্পিত এক বাহন।আমাদের প্রত্যেকের জীবনে রিক্সা অনেক “ইতিহাসের” সাক্ষী। রিকশা থামিয়ে প্রপোস করা কিংবা বৃষ্টিতে রিকশা আউিটং অথবা রিকশা ফলোয়িং আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি যতদুর পড়াশোনা করে জেনেছি, তা হলো রিকশার আবিষ্কার জাপানে। আবিষ্কারকের স্ত্রী ছিলেন পক্ষাঘাতগ্রস্থ, তাকে সাহায্য করার কেউ ছিল না। তাই স্বামী তাকে সবসময় সাথে রাখার জন্য তৈরী করলেন কাঠের তৈরি এই বাহন। উপমহাদেশে রিকশা আসে রাজা মানসিংহের হাত ধরে, তিনিও তার স্ত্রীর জন্য এটা নিয়ে এসেছিলেন। মানসিংয়ের স্ত্রী যখন রাজকীয় পোশাক পরতেন তার ওজন হতো প্রায় দুই মণ এবং এত ওজন নিয়ে রাণীর পক্ষে হাটা সম্ভব ছিল না বলেই রাজা এই বিশেষ বাহনের ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশে ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রিকশার আমদানি হয়। যতদূর জানা যায় নারায়ণগন্জের এক ব্যাবসায়ী তার পণ্যের পরিবহনের সুবিধার্থে রিকশার আমদানি করেন। এই পরিবহন তিনি দেখেছিলেন রেংগুনে। শোনা যায় এই রিকশা রেংগুন থেকে চট্টগ্রাম হয়ে নারায়ণগন্জে আসে। কালক্রমে রিকশা সাধারনের পরিবহনে পরিণত হয়। সমস্যা হচ্ছে এই পরিবহন নিয়ে আমাদের কোন পরিকল্পনাই নেই। কিছুদিন আগে এক গবেষণায় দেখা যায় ঢাকা শহরের ১৫% রিক্সাওয়ালার বয়স ৬০ বছরের উপর। তার মানে হচ্ছে রিক্সাওয়ালার পরবর্তী প্রজন্ম আর এই বাহন চালাতে উৎসাহি নয়, এই কারনেই হয়তো অটোরিক্সার এতটা উত্থান ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে। কিন্ত অটোরিক্সা কি পরিবেশবান্ধব আর ঐতিহ্যবাহি রিক্সার বিকল্প হতে পারে? বেঁচে থাকুক আসল রিক্সা।
ডা. হাসান মাহমুদ: ফিচার লেখক
