‘মন ও মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বইয়ের বিকল্প নেই’

ফিচার বাংলাদেশ শিল্প-সাহিত্য
একুশে বই মেলা আমাদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিকাশের অঙ্গীকারকে মনে করিয়ে দেয়।এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে বই মেলা শুধু বই মেলা নয়, এ যেন এক মিলন মেলা। লেখক-পাঠক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের আনাগোনা দেখা যায় এই মেলায়। বয়সের সীমারেখা ভেদে সকল বয়সের পাঠক ও ক্রেতার দেখা মেলে এই মেলায়। মেলা ঘুরে তাদের সাথে কথা বলে লিখেছেন মিজু আহমেদ

 

মো: মইনুল হক, সিনিয়র শিক্ষক, বি এফ শাইন কলেজ, কুর্মিটোলা

এবছরের মেলায় আজই আমার প্রথম দিন। আজ নির্দিষ্ট কোন বই কিনতে আসিনি আমি । প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করব প্রিয় লেখক আনিসুল হক ও সাথে কিছু তরুণ লেখকের বই। বই পড়ার মাঝে অসীম আনন্দ খুঁজে পাই আমি । তাই প্রতি বছরই ছুটে আসি বই মেলায় এবং সংগ্রহ করি ভালোবাসার বস্তু বই।

শাহারিয়ার ইসলাম, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। প্রিয় লেখকের বইয়ের টানে বারবার মেলায় চলে আসি আমি। কিংবদন্তি কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ -এর বেশ কিছু বই আমি পড়েছি। কিন্তু পছন্দের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ‘হিমু সামগ্রী’। তাছাড়া এইবারের বইমেলার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিটি দৃষ্টিনন্দন স্টল আমাকে মুগ্ধ করেছে, যা আমার মতো তরুণ পাঠকদের বই মেলায় আসার আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে ।

মো: রাজিব ইসলাম, সরকারি কর্মকর্তা

আমার অবসর সময় কাটে বই পড়ে। বেশির ভাগ সময় প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -এর বই পড়ে থাকি আমি । অনেক আগে থেকেই বই মেলায় আসা হতো আমার। বরাবরের মতো এবারও এসেছি অবসরের সঙ্গী বই এর টানে। করোনার তান্ডব কাটিয়ে আবারো বই মেলায় আসতে পেরে বেশ আনন্দিত আমি।

মাহমুদুল হাসান নিহাল, বিক্রেতা,মাওলা ব্রাদার্স

‘মাওলা ব্রাদার্স ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা, প্রায় সকল ধরনের বই পাওয়া যায় এখানে। তাই সকল বয়সী পাঠকদের দেখা মেলে আমাদের স্টলে। এবারের মেলার পরিবেশ বেশ সুন্দর। সুন্দর পরিবেশ ও কঠোর নিরাপত্তার কারণে বিক্রেতারা সুন্দর ভাবে বই বিক্রি করতে পারছেন। বরাবরের মতোই ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতারা বেশি ভিড় জমাচ্ছেন স্টলে স্টলে। তবে ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি হতাশ করার মতো নয়।

 

নতুন অনুপ্রেরণা, ভালোবাসা ও বাংলা সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখার মেলা, অমর একুশে বই মেলা। ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি এ মেলায় প্রতিদিন দেখা মিলে সবার প্রিয় লেখক-লেখিকাদের সাথে, যাদের লেখা মন কারে হাজারো পাঠকের। প্রিয় লেখকদের এক নজর দেখার সুযোগ করে দেয় এই বই মেলা।

সামসাদ ফেরদৌসী, লেখিকা

এবারের মেলায় আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে ‘আগামী প্রকাশনী’ থেকে। বইটির নাম ‘স্বপ্ন বুনন’ এটি একটি কাব্যগ্রন্থ। তরুণ লেকখদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, কবিতা লেখার সময় কয়েকটি বিষয় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন: অতি মাত্রায় দীর্ঘায়িত না করা, আর দীর্ঘায়িত হলে ও প্রতিটি প্যারায় নতুন চমক রাখতে হবে, ফলে পাঠক পড়ার আগ্রহ পাবে। অতিরিক্ত কঠিন করে না লিখে সহজ ভাষা ব্যবহার করাই ভালো, এতে করে লেখার মধ্যে পাঠকে ধরে রাখা যায়। তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমি বলব,  বলেন, আমরা নিজেকে স্মার্ট প্রমাণিত করার জন্য অর্ধেক বাংলা অর্ধেক ইংলিশ মিশ্র ভাবে ব্যবহার করি। যেটা ‘বাংলিশ’ ভাষা নামে পরিচিত। এটাকে কখনো স্মার্ট বলে না। বরং কোন কিছুতে ভয় না করে সকল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াকেই বলে স্মার্ট। আমাদের কথা বলার সময় এই বিষয়টি ঠিক রাখতে হবে বলে আমি মনে করি। ক্ষুধা নিবারনের জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তেমনি, মন ও মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিবারনের জন্য বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। আর বই মেলা সেই পথকে আরো রাঙিয়ে দেয়, করে তোলে সুন্দর ও প্রসারিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *