চারদিক ২৪ ডেস্ক
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জয় সাদমানের মরদেহ শেরপুর এর মৃগী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর রবিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেলে জয় সাদমান তার এক বন্ধুকে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে যান। সেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জয়ের বন্ধুকে মাদকসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, অভিযান চলাকালে ভয় পেয়ে জয় দৌড় দেন। পরে তিনি মৃগী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নদীর ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল আমাদের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সেখানে একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ওই অভিযানে একজনকে মাদকসহ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের ভয়ে কারও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাকে ধরতে গিয়েছিলাম, তাকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। কারও পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।
জয়ের নিখোঁজের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলে পুলিশ জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রবিবার বিকেল থেকে মৃগী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নদী থেকে জয় সাদমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জয় সাদমান স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।