মিজু আহমেদ-
‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’, কীংবা ‘তুমি আকাশের বুকে’, এমন অসংখ্য কালজয়ী গানে কন্ঠ দিয়েছেন নব্বই দশকের প্রখ্যাত গায়ক খালিদ। যেসব গান এখনো বিরাজমান শ্রোতাদের হৃদয় জুড়ে। কিন্তু কালজয়ী এসব গান চাইলে ও আর শোনা যাবে না খালিদের কন্ঠে।
পুরো নাম খালিদ সাইফুল্লাহ। আশি ও নব্বই দশকের শ্রোতারা যাকে খালিদ নামেই চিনতো। গুনী এই শিল্পী জন্মগ্রহন করেন ১৯৬৫ সালের ১ আগষ্ট। খালিদের শৈশব কাটে জন্মস্থান গোপালগঞ্জে। গানের জগতে তাঁর যাত্রা ১৯৮১ সালের দিকে। ব্যান্ড দল ‘চাইম’ -এ যোগ দেন ১৯৮৩ তে। একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিতে থাকেন শ্রোতাদের। ১৯৮৯ সালের দিকে ‘নাতি খাতি বেলা গেল’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়৷ খালিদের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে দেশ হতে বিদেশে।
একমাত্র পুত্র সন্তান এবং স্ত্রীকে নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন খালিদ। সেখান থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে হৃদ রোগে ভুগছিলেন, একাধিক বার চিকিৎসা ও নিয়েছিলেন। শোনা যায় তাঁর হৃদযন্ত্রে একটি স্টন্ট ও বসানো ছিলো। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রোতা ভক্তদের কাঁদিয়ে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমালেন এই গুণীশিল্পী।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ -এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের শিক্ষার্থী ইন্দ্রানী মল্লিক শিল্পী খালিদের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
প্রতিদিনের ন্যায় সব কাজ শেষ করে ফেসবুক স্ক্রল করছিলাম। হঠাৎ চোখে পরলো সঙ্গিতশীল্পি খালিদের মৃত্যুর সংবাদটি। স্তব্ধ হয়ে গেলাম এক অকস্মাৎ মৃত্যুসংবাদে। ওনার ‘সরলতার প্রতিমা’ গানটি মনে হয় আমি গতকালও শুনেছিলাম। তিনি জগৎ থেকে চলে গেলেও তাঁর গানের মাধ্যমেই থাকবেন সবার হৃদয়ে।
দীর্ঘ সংগীত জীবনে খালিদ ভীষণ ভাবে মন জয় করেছেন শ্রোতাদের। তাই তো এই বিদায় বেলায় শোকের ছায়া নেমেছে দেশজুড়ে।
