সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি
জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘আবাসভূমির সন্ধানে দুই তাত্ত্বিক: রোকেয়া ও পিজান’ শীর্ষক ওয়েবিনার। বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) এই অনলাইন আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আরিফা সুলতানা।
ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন সহকারী অধ্যাপক পিংকি সাহা।
সাম্প্রতিক নারীবাদ এবং আধুনিকতার যে সংকট তা রোকেয়ার চিন্তার মাধ্যমে সমাধান করার তথ্যসূত্র নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে রোকেয়া এবং চৌদ্দ শতকে পশ্চিমের একজন দার্শনিক নারীবাদী তাত্ত্বিক ক্রিস্টিন পিজান এর কথা তুলে ধরেন। এই দুই তাত্ত্বিক দুই স্থানের দুটি ভিন্ন সময়ের মধ্যে থেকেও একই লক্ষ্যের দিকে যেতে চেয়েছেন। দুজনের ভাষা, সংস্কৃতি, সময় একেবারেই আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্যে পৌছানোর বিষয়টিতে মিল ছিল।
আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া তার আলোচনায় আরও বলেন পিজান ও রোকেয়া সাখাওয়াত দুজনে একটি লক্ষ্যে ছুটেছিলেন,সেটি হলো সুন্দর এবং যুক্তিসিদ্ধ একটি আবাসভূমি তৈরি করা।
আবাসভূমির ভাবনায় একজন নারী তার বুদ্ধিমত্তা, ধীরশক্তি,ধৈর্য্য দিয়ে রাষ্ট্রকে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারেন। রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ প্রবন্ধের আলোকে বিষয়টি আলোচনা করেন ড. আরিফা সুলতানা। তিনি তার বক্তব্যে রোকেয়া ও পিজান সম্পর্কে বলেন, দুজন দুই ভূখণ্ডের বাসিন্দা কিন্তু তাদের মধ্যকার যে মিলটি হয়েছে সেটি বঞ্চিতের ভাবনা থেকে।
আরিফা সুলতানা তার আলোচনায় নারীদের জন্য নিজস্ব আবাসভূমি গড়ার যে চেষ্টার ভাবনাটি সেটিকে আরও প্রসারিত করার কথা বলেছেন। নারীদের সত্যিকারের মুক্তি, সমাজে প্রসারিত করার মুক্তি কিন্তু এখনও আসে নি এই মুক্তির জন্য নারীদের নিজেদেরকে হাটতে হবে আবাসভূমির লক্ষ্যের দিকে বলেন তিনি।
ওয়েবিনারে জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ড. মেসবাহ কামাল, উপদেষ্টা অধ্যাপক এ.টি.এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. সোনিয়া আমিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
