শামস মাশরাকা
বিশ্বে এই প্রথম কোনো ব্যক্তিকে ফাইজার ও বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা দেওয়া হলো যুক্তরাজ্যে। মঙ্গলবার এই টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। ৯০ বছর বয়সী এক নারী প্রথম এই টিকা পেয়েছেন। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যে ফাইজারের করোনার টিকা প্রথম যিনি পেয়েছেন, তাঁর নাম মার্গারেট কেনান। তিনি নর্দান আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা। মাত্র ১০ মাসেই সাফল্য পেয়েছে ফাইজার ও বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনটি।
এর আগে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফাইজার ও বায়োএনটেকের করোনা টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্কে এই টিকার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সাত দিন পর ভাইরাসটি প্রতিরোধে মানবদেহে ৯০ শতাংশ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ২১ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দিতে হবে। এছাড়া রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক ভ্যাকসিনটিও ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর৷
প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী এবং বাড়িতে রোগীদের দেখভাল করেন এমন মানুষদের এ টিকা দেয়া হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেয়া হবে এবং বয়স অনুয়ায়ী এ টিকা প্রদান করা হবে। বয়ষ্করা প্রধান্য পাবেন।
যুক্তরাজ্য বাণিজ্যমন্ত্রী অলোক শর্মা বিবিসি রেডিও ফোর টুডের অনুষ্টানে বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে বড় পরিসরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। তিনি বলেন, আমরা ফাইজার ও বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন পেয়েছি। এখন প্রয়োগের বিষয়ে কথা বলছি। একই সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটিও পর্যালোচনা করছে এমএইচআরএ।
২০ মিলিয়ন মানুষের জন্য এ টিকা প্রয়েগের কথা রয়েছে। তবে এ টিকা দুই ডোজ করে দেয়া হবে বলে ৪০ মিলিয়ন টিকার দরকার হবে।
দেশটিতে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৩৭৯ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ হাজার ১১১ জন। জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ।
গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাহরাইন এ অনুমোদন দেয়। দেশটির বার্তা সংস্থা বিএনএ এ খবর নিশ্চিত করেছে। বাহরাইনের জাতীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বাহরাইন সরকার ফাইজার বা বায়োএনটেকের তৈরি কভিড-১৯ মহামারির টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যাবে।
সূত্র : বিবিসি
