পাঠকের কাছে মেলা ‘উপভোগ্য’, দাম বাড়ায় বই কেনা কম

বাংলাদেশ

সাজনাত ছোঁয়া

অমর একুশে বইমেলার শেষ দিন আজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখরিত বইমেলা প্রাঙ্গণ। এবছর অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে লক্ষ করা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে কথা হয় অমরাবতী সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি এম. এ. মতিনের সঙ্গে। ‘মতিন বাঙালি’ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। তার মতে, লিটল ম্যগাজিন চত্বরে পাঠক ও দর্শনার্থীরা আসে প্রচুর কিন্তু বই কেনে খুবই কম। একসময় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থেকে অনেক বই কেনাবেচা হতো কিন্তু এখন খুব কম হয়। বইয়ের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে দাবি তার।

পরিবারকে সাথে নিয়ে এসেছেন গৃহিণী শেফালি আক্তার। জানালেন, ‘বইমেলার শুরুর দিকে এসেছিলাম। কিন্তু এখন বেশি মানুষ থাকায় একটা উৎসব মনে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে এসেছি। ঘুরে ঘুরে বই দেখছি, বাচ্চারা বই দেখছে। যার বই ভালো লাগবে তার বইটিই কিনব। বইয়ের দাম এবার বেশি হওয়ায় এখনও বই কেনা হয়নি।’

বড়দের হাত ধরে ছোটরাও এসেছে মেলায়। কথা হয় প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু পাঠক দোলার সাথে। বইমেলায় বাবা আর বোনের সাথে ঘুরতে এসেছে সে। কার্টুনের বই কিনেছে। বইমেলার শিশু চত্বরে অনেক মজা করেছে। সিসিমপুরের কার্টুনের সাথে নেচেছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া হোসেন মেলায় এসেছেন বন্ধুদের সাথে। তার পছন্দের লেখক হূমায়ুন আহমেদ। জানালেন, ‘এখনও বই কেনা হয়নি। এই প্রায় শেষ সময়টায় বই মেলা এখন আরো বেশি জমে উঠেছে। বন্ধুরা মিলে এসেছি, ঘুরছি, বই দেখছি সবাই। ভালো লাগছে।’

অন্তিক মাহমুদের বই কিনতে এসেছেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদাদ শাহরিয়ার। তিনি মনে করেন, ‘নতুন প্রজন্মের লেখকেরা এখন খুব ভালো লিখছেন। এবার বইয়ের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। অনেক বই পছন্দ হচ্ছে কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে বই কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।’

মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও মেলার জন্য আবার একবছর ধরে অপেক্ষা করতে হবে ভেবে পাঠকদের হৃদয় খানিকটা সিক্ত।

ছবিঃ সীমান্ত খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *