বইমেলার জোয়ারে কেমন আছে নীলক্ষেত

বাংলাদেশ

জয়া হাসান

ঢাকার বইপ্রেমী মানুষের কাছে খুবই পছন্দের এবং পরিচিত নীলক্ষেত। সাহিত্য কিংবা ইতিহাস, স্কুল থেকে চাকরির পরীক্ষা সব ধরনের বইয়ের উৎস হিসেবে এই জায়গাটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস এলেই খানিকটা ম্লান হয় নীলক্ষেত, সবাই তখন বইমেলা নিয়েই ব্যস্ত। বিক্রেতাদের দাবি, বইমেলার কারণে তাদের বিক্রিও কমে যায় খানিকটা।

বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি কম হয়, এমনটাই বলছিলেন নীলক্ষেতের ‘হাসান বই ঘর’ দোকানের একজন প্রবীণ কর্মচারী বাবুল হোসেন। জানালেন, ‘এই মাসটা আমাদের মন্দার সময়। তবে একদম যে বিক্রি হয় না এমন নয়।’

প্রায় একই কথা ‘বই ঘর’ দোকানের মালিক রুহুল আমিনের। বললেন, ‘মেলার মাসে বেচা-বিক্রি হয় কম এ কথা সত্য। তবে মেলায় তো আর পড়ালেখার বই পাওয়া যায় না। তাই সেগুলো কিনতে হলে এখানেই আসতে হয়।’

কথার প্রমাণও পাওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখা যায় নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানগুলোতে ভিড় করতে। ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ-ও এসেছেন বই কিনতে। তার মতে, নীলক্ষেত এমন এক জায়গা যেখানে সব ধরনের বই পাওয়া যায়। নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান অত্যন্ত প্রাচীণ এবং দেশসেরা। এমন কোন বই নেই যে এখানে পাওয়া যায় না।

রায়হান তার পাঠ্যবই থেকে শুরু করে সবকিছুই এখান থেকে কেনেন। বলেন, ‘বইমেলায় আমরা কেন যাই? ঘুরতে, সুন্দর সময় কাটাতে। নতুন গল্পের বই কী কী এলো সেসব দেখতে এবং কিনতে। কিন্তু ক্লাসের বইতো আর সেখানে পাওয়া যাবে না। সেগুলো কিনতে হলে নীলক্ষেতেই আসতে হবে৷ তাই বইমেলার প্রভাব এখানে খুব একটা পড়ে বলে আমি মনে করি না।’

রায়হানের কথার সাথে একমত ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। বলেন, ‘নীলক্ষেতে পুরনো থেকে শুরু করে নতুন প্রচুর আইনের বই রয়েছে। আমি সময় পেলেই এখানে চলে আসি। এখান থেকেই সবসময় বই কিনি। এই বইগুলো কি আপনি বইমেলায় পাবেন? পাবেন না। কিন্তু বইমেলায় যে নতুন বইগুলো এসেছে সেগুলো মেলা শেষ হলে নীলক্ষেতে চলে আসবে।’

তবে ক্রেতারা এটাও বলছেন, বইয়ের নতুনত্বের স্বাদ নিতে হলে আপনাকে এখন সেগুলো মেলা থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। তাই, নীলক্ষেত ও বইমেলা দুটোই বইয়ের ক্ষেত্র হলেও বইমেলার সাথে নীলক্ষেত আর নীলক্ষেতের সাথে বইমেলার কোন তুলনাই হয় না বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *