সময়ের পাঠকপ্রিয় তরুণ লেখকদের একজন মৌরি মরিয়ম। তার লেখায় মানবিক সম্পর্ক, প্রেম, মান-অভিমান, ভ্রমণ, যাপিত জীবন সমকালীন প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে। পৈতৃক নিবাস গৌরনদী, বরিশাল। তার ছোটবেলা কেটেছে রাজধানীর ধানমন্ডিতে। পড়েছেন ধানমন্ডি হাইস্কুল, বদরুন্নেসা কলেজ এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে। ভ্রমণ ও রান্নার প্রতি রয়েছে গভীর অনুরাগ | ভালোবাসেন বই পড়তে। সেই ভালবাসাই তাকে লেখালেখির জগতে টেনে এনেছে। লেখালেখির শুরু স্কুল ম্যাগাজিনে লেখার মাধ্যমে। বর্তমানে লেখাই তার ধ্যানজ্ঞান লেখালেখির মাঝেই থাকতে চান আজীবন। তার প্রথম বই ‘প্রেমাতাল’ (২০১৮)। বিশেষ সাক্ষাৎকারে চারদিক২৪ ডট কম এর সাথে কথা বলেছেন লেখক মৌরি মরিয়ম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি।
চারদিক২৪: লেখক হিসেবে আজকের অবস্থানে আসার পথটা কেমন ছিল?
মৌরি মরিয়ম: মানুষের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়, আমারও হয়েছে। আমি যখন প্রথমে বই পাবলিশ করতে চাচ্ছিলাম তখন কোন প্রকাশক পাইনি। যেহেতু আমি নতুন ছিলাম, কেউই আমার বই বের করতে চায়নি। পরবর্তীতে, একবছর পরে আমি সুযোগ পেয়েছি। এছাড়া অন্যান্য যে বাধাগুলো সময় ও জীবনের বিভিন্ন বিষয় মেইনটেইন করতে হয়। বিশেষ করে চকরি ও লেখালেখি একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন। সে কারণেই আমি চাকরি ছেড়ে লেখালেখি করছি। এর বাইরে বাকি বাধাগুলোকে আমি বাধা মনে করি না। কারণ, সেগুলো আমার চলার পথের সঙ্গী, সেগুলোকে বাধা মনে না করে জীবনের অংশ ভাবাও ভালো, তখন কাজগুলো সহজ হয়ে যায়।
চারদিক২৪: সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে?
মৌরি মরিয়ম: হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছি ‘ফানুস’ বইটির জন্য। আমি সব গল্প যেভাবে লিখি এটিও সেভাবেই লিখেছি। প্রথমে আমার কাছে কিছু একটা থিম বা ব্লগ কিংবা ভিডিও আসে। সেখান থেকেই পুরো গল্পটি সাজাই। গল্পটি লিখেছি ২০১৭ সালে, প্রকাশ হয় ২০২১ সালে।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি অবশ্যই ভালো। যেকোনো সম্মাননাই কাজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এই পুরস্কারটা আমার জন্য আরও বেশি স্পেশাল কারণ এটি হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। হুমায়ূন আহমেদ আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক। যার নামটির প্রতিই আমার অনেক দূর্বলতা। তার নামের সঙ্গে পুরস্কারটি জড়িয়ে, তাই এটি আমার কাছে অনেক বেশি স্পেশাল।
চারদিক২৪: কোন ধরনের লেখা লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
মৌরি মরিয়ম: আমি উপন্যাস লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাছাড়াও গল্প, কবিতা, ভ্রমণকাহিনীও লিখি। এগুলো লিখে লিখে জমাচ্ছি হয়তো এগুলোও কখনও বই আকারে প্রকাশ হবে। তবে, সামনে একটি কবিতার বই আসতে পারে, গল্প সংকলন আসতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের উপর কাজ করার ইচ্ছে আছে, যেমন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। অনেক কিছু করার পরিকল্পনা আছে। কতটা কি করতে পারবো জানি না। যখন করবো তখন বোঝা যাবে। মানুষের সব প্লান তো আর বাস্তবায়ন হয় না। তবে চেষ্টা আছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে করবো, গল্পও সাজানো হয়ে গেছে, এখন শুধু সময় নিয়ে লিখবো। এটার জন্য আরও অনেক বিষয়ে পড়তে হবে, কারণ হুটহাট করে তো লেখা যায় না।
চারদিক২৪: এবারের বই মেলায় আপনার কী কী বই এসেছে?
মৌরি মরিয়ম: এবারের বইমেলায় আমার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যয়ন প্রকাশনী থেকে এসেছে ‘প্রেমাতাল’, বইটি পাওয়া যাচ্ছে তাম্রলিপি প্রকাশনীতে। অন্য প্রকাশ থেকে এসেছে ‘অলিন্দ অনলে’। ‘অলিন্দ অনলে’ একেবারে নতুন বই, আর প্রেমাতাল আমার পাঁচ বছর আগের বই, আবার নতুন করে এসেছে। চার বছর বইটি বন্ধ ছিলো।
চারদিক২৪: পাঠকদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মৌরি মরিয়ম: গত দুই বছর করোনার কারণে আগের মতো বইমেলা হয়নি। এবার আমার মনে হচ্ছে আগের মতো জমিয়ে উঠেছে বইমেলা। খুবে ভালো লাগছে বইমেলা দেখে।
চারদিক২৪: এবারের বইমেলার পরিবেশ কেমন লাগছে?
মৌরি মরিয়ম: এবারে মেলার পরিবেশ ভালো। কিন্তু স্টল বিন্যাস খুব একটা ভালো হয়নি। একটার সাথে আর একটা খুব লাগোয়া। যে কারণে একটু চলাচলের অসুবিধা, ধুলাবালি বেশি উড়ছে। কারণ অল্প জায়গার মধ্যে বেশি মানুষ হাঁটাহাঁটি করছে। এটা ছাড়া বাকি সব ঠিক আছে।
চারদিক২৪: বাংলা একাডেমি আদর্শ প্রকাশনীকে বই প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
মৌরি মরিয়ম: বাংলা একাডেমি আদর্শকে বই প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিষয়টি এমন নয়, বাংলা একাডেমি এবার আদর্শকে বই মেলায় স্টল দেয়নি। বিষয়টা এমন। কিন্তু বাংলা একাডেমি কেনো তাদের স্টল দেয়নি, এ বিষয়টি আমি আসলে জানি না। তাই এই বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই।
চারদিক২৪: আজ থেকে দশ বছর পরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
মৌরি মরিয়ম: নিজেকে লেখালেখি নিয়ে কোথায় দেখতে চাই সেটা বলতে পারবো না। কারণ, সেভাবে বিষয়টা দেখি না। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার পূর্বের লেখা থেকে বর্তমান লেখাকে ভালো করার জন্য। কিন্তু এই লেখালেখি দিয়ে আমাকে কোথাও যেতে হবে বা কিছু একটা করে ফেলতে হবে এরকম কখনও ভাবিনি। নিজের আনন্দের জন্যই লিখতাম। পরবর্তীতে আমার লেখা যে পাঠকরা পড়েন তদের জন্য লিখি। এটি আমি একদমই ভাবি না যে দশ বছর পরে আমি কি দেখতে চাই। এরকম কিছু আমি দেখতেই চাই না। আমার নিয়তি আমাকে যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকেই যেতে চাই। আমার কাজগুলো আগের থেকে ভালো করতে চাই।
