ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

বাংলাদেশ

আলওয়ান খান:
আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। তাদের এ দাবি মানা না হলে, প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচী হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতীকী ক্লাস নেয়া শুরু করবেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত “কোভিড ১৯ পরিস্থিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেবার কর্মপরিকল্পনা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক-এর নেতৃবৃন্দ।

তারা দাবি জানান, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে ফেরার সুযোগ করে দিতে হবে। নেটওয়ার্ক-এর প্রস্তাব, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথম থেকেই পূর্ণ কার্যক্রম শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই, বিবেচনায় আবাসিক হলে প্রথমে শুধু অনার্স এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা, যারা তাদের শিক্ষা জীবনের শেষের দিকে রয়েছে তাদের ওঠার অনুমতি থাকবে।’

আবাসিক হলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না করে কোনভাবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার কোন ধরনের কার্যক্রম শুরু করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয় ১১ দফা প্রস্তাবে। বলা হয়, ‘সিনিয়র ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে, পরবর্তী ব্যাচগুলোর ধাপে ধাপে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।’

এছাড়া, গণরুম ব্যবস্থা বাতিলসহ আবাসিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার পরিকল্পনা প্রশাসন এবং সরকারকে এখনই ভাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেস্ট এবং টিকা দানের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সব কিছু খুলে কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে শিক্ষার প্রতি এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখে জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন এবং ইউজিসি পরিস্থিতির উন্নতি করার মত যথেষ্ট সময় পেয়েছিলো। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আবাসিক হলের পরিবেশের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কোভিড টেস্ট করার ও টিকা নেয়ার ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশন, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা, মোবাইল অপারেটরদের সাথে দরকষাকষি করে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যেত – যা অর্জন করতে দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন। বক্তব্য পাঠ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), কামরুল হাসান মামুন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), আরাফাত রহমান (বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ), কাজী মারুফুল ইসলাম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), নাসির উদ্দিন (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমূখ।

অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সামিনা লুৎফা, রুশাদ ফরিদী, সৌভিক রেজা, মানস চৌধুরী, বখতিয়ার আহমেদ, ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা, তপন মাহমুদ লিমন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *