রিদিতা সাহা
বন্ধুদের আড্ডার প্রধান সঙ্গী হিসেবে ভূমিকা পালন করে এক সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট উষ্ণ পানীয়। অন্যকিছু ভাবার আগেই বলি, আমি চায়ের কথা বলছি। আড্ডার সাথে যে জিনিস না হলেই নয়, সেটাই চা। ‘সেইরকম চা-খোর’ কিংবা ‘এক কাপ চা’ এর মতো জনপ্রিয় নাটক-সিনেমাও তৈরি হয়েছে চা-কে কেন্দ্র করে।
ঢাকায় প্রতিদিন অনেক মানুষকে একসঙ্গে চায়ের আড্ডায় দেখা যায় টিএসসিতে। অনেকের মতে এই টিএসসি ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। অনেক মানুষ পাশাপাশি বসে বা দাঁড়িয়ে ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে গল্প করছেন, সবার হাতেই চা- এমন দৃশ্য এখানকার সাধারণ ঘটনা।
টিএসসিতে বংশপরম্পরায় চা বিক্রি করে আসছেন রুবেল। নিজের নামের সাথে মিল রেখে দোকানের নাম দিয়েছেন ‘রুবেল টি স্টোর’। প্রায় ১৭ বছর ধরে এখানে চা বিক্রি করেন। সেই স্মৃতি থেকে বলেন, ‘আমি মোশাররফ করিম-রে দুধ চিনি ছাড়া রঙ চা খাওয়াইছি। তাছাড়া, তানজিন তিশাও আমার দোকানে চা খেতে আসছিলো। আরও অনেকে আসে।’
চায়ের সাথে মোশাররফ করিম নামটি খুবই পরিচিত। ‘সেইরকম চা-খোর’ কিংবা ‘জমজ’ নাটকে বা বিজ্ঞাপনে তার চা খাওয়ার দৃশ্য দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত।
রুবেল জানালেন, টিএসসিতে কমপক্ষে ৫০ রকমের চা পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় মালাই চা, মরিচ বা টক ঝাল মিষ্টি চা, স্ট্রবেরি চা, কফি চা, পনির চা, মাল্টা চা, বাদাম চা, দুধ চা ও রঙ চা।
প্রায় প্রতিদিনই টিএসসিতে আড্ডা দিতে আসেন এমন একজন জানালেন, ‘আমরা বাঙালিরা ঘরের মধ্যে থাকতে চাই না। আমরা ঘুরে বেড়াতে চাই, আড্ডা দিতে চাই। টিএসসি আড্ডার কেন্দ্রস্থল। টিএসসিতে এলেই দেখা যায় চেনাজানা নেই কিন্তু তারপরও চায়ের মাধ্যমে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠছে। মন ভালো থাকলেও টিএসসিতে আসি, খারাপ থাকলেও আসি।’
রুবেল ছাড়াও টিএসসিতে আরও অনেক চা বিক্রেতা আছেন যারা বংশপরম্পরায় তাদের এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাক্ষী হচ্ছেন হাজার হাজার আড্ডার।
