সুতপা মজুমদার-
২০২০ সাল। কোভিড মহামারীর প্রকোপে ঘরবন্দী জীবন, একা একা নিজের সাথে গেয়ে যাওয়া – সেই সময়টাতেই লিসান বানিয়ে ফেলেন নিজের কিছু গান। অনেকদিন অনেকের সাথেই দেখা নেই, আড্ডা নেই; ওদিকে লাইভ কনসার্ট কিংবা ব্যান্ডের সাথে জ্যামিংও বন্ধ। এই সুযোগেই তৈরী হতে থাকে গানগুলো। “ভন্ড”, “কৈশোর” বা “অযথাই”- এর মতো জনপ্রিয় গানগুলোর গায়ক, অবলিকের তৎকালীন ভোকালিস্ট, লিসান, নিজের পারফর্মার পারসোনা থেকে বের হয়ে সিঙ্গার-সংরাইটার হয়ে ওঠার, নিজের গান তৈরির যাত্রাটা শুরু করেন সেই সময়টাতেই।
পরবর্তীতে অবলিকের সাথে লিসানের সাত বছরের জার্নিটা শেষ হয় ২০২১ এর শেষে এসে – অক্টোবর মাসে। সে গল্প আরেক সময়ের জন্য তোলা থাক।
ছোট্ট এই জীবনে লিসান সবসময়ই চেয়েছেন মানুষকে গান শোনাতে। সেই ইচ্ছা থেকেই আবারো জোরালোভাবে সিদ্ধান্ত নেন গান গেয়ে যাওয়ার, তবে নতুন করে ব্যান্ড লাইনআপ তৈরি করবেন কিনা – এ নিয়ে শুরু হয় নিজের সাথে নিজের সংশয়। ২০২২ এর মাঝামাঝি সময় আসতে আসতে লিসানের নিজের বেশ কিছু গান তখন রেডি। সে সময়টায় কখনো একা একা, কখনো কাছের মিউজিশিয়ান ভাইব্রাদারদের সাথে নিয়ে বেশ কিছু লাইভ শো তে বাজানো শুরু করেন, আবারও।
নিজের বানানো গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে, খুব বেশি দেরি না করে নিজ উদ্যোগেই শুরু করেন প্রথম গানের কাজ। ২০২২ এর অক্টোবরে রিলিজ পেলো ‘কিছু রং’। অবলিকের দীর্ঘসময়ের সঙ্গী, সামিন ও দীপ্ত এই গানের রেকর্ডিং-এ দারুণ সাপোর্ট দেন লিসানকে। গানটির প্রোডাকশন করেন বারাকাত শোভন। “কিছু রং” রিলিজের সময়ই লিসান তার নতুন লাইনআপের নাম দেন, “লিসান অ্যান্ড দ্য ব্লাইন্ডমেন”।
প্রথম গান রিলিজের পর ‘লিসান এন্ড দ্যা ব্লাইন্ডমেন’-কে আরও খানিকটা গুছিয়ে নেন লিসান। কোন একটা শো’তে বাজানোর কল পেয়ে তার সাথে যোগ দেন সৌমিক, রুপক ও সায়ন্ত। সেখান থেকে এখনো অব্দি একসাথে বাজিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে ব্যান্ডে গিটারিস্ট ও প্রোডিউসার হিসেবে যোগ দেন শাওন। আর গেলো বছরের শেষদিকে কিবোর্ড বাজানোর দায়িত্বটা দেওয়া হয় আকিবকে। এই ৬জন মিলেই ব্যান্ডের বর্তমান লাইনআপ।
২০২৩-এ রেকর্ডিং শুরু হয় নতুন গানের। ‘হেসে যাই’। একটা নির্দিষ্ট লাইনআপ হিসেবে প্রথম গান ও মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ পায় ‘হেসে যাই’। নিজের কিছু বাস্তবিক অভিজ্ঞতা, ইচ্ছা-অনিচ্ছার টানাপোড়েন থেকে বেরিয়ে আসে এই গান। গানটা লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন লিসান নিজেই।
অত:পর সবশেষে রিলিজ হলো “দ্য ব্লাইন্ডমেন” এর নতুন গান, “শান্তি আমার”। ‘শান্তি আমার’ রিলিজ করার ব্যাপারটা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিলো ব্যান্ডের জন্য। গানের কথাটা লিসান নেন বাল্যবন্ধু সৌরদীপ দাসগুপ্তের একটা ফেইসবুক স্টেটাস থেকে। গানের কথাগুলো স্মৃতিচারণধর্মী – সময়ের স্রোতে হারিয়ে ফেলা কোনো মানুষের কথা ভেবেই গানটা লেখা হয়েছিলো – লিসানকে এমনটাই জানান সৌরদীপ। কিছুটা মন খারাপ করা লিরিক, সাথে ক্যাচি-মেলোডিয়াস সুর – এই ভারসাম্য ঠিক রেখে গানটা তৈরি হতে সময় লেগে যায় কয়েক মাস। ২০২৩ এর নভেম্বরে রিলিজ করার প্ল্যান থাকলেও গানটা শেষমেশ প্রকাশিত হয় গত ১৯ এপ্রিল। রিলিজের পর থেকেই গানটা নিয়ে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন “লিসান অ্যান্ড দ্য ব্লাইন্ডমেন”। গানটা একটা অ্যানিমেটেড লিরিক ভিডিও আকারে দেখা যাচ্ছে তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলে। সুর-গায়কী-কম্পোজিশনের পাশাপাশি এ গানের কথা কুড়াচ্ছে আলাদা প্রশংসা। লিসান নিজেও মনে করেন একটা গানের সবচেয়ে বড়ো শক্তি এর কথা। সেজন্য গান তৈরির সময় লিরিকের প্রতি আলাদা মনোযোগটা সবসময়ই থাকে তার পক্ষ থেকে।
চলতি বছরেই একটা ফুল লেংথ অ্যালবাম বের করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যান্ডের। এর আগে আরও একটা কিংবা দুটো নতুন গান সিঙ্গেল আকারে রিলিজ হতে পারে। নতুন গান নিয়ে এমন পরিকল্পনা নিয়েই আগাচ্ছে “লিসান অ্যান্ড দ্য ব্লাইন্ডমেন”।
