অমর একুশে বইমেলার বিভিন্ন গল্প নিয়ে ফটো ফিচার তৈরি করেছেন ‘ফাইজা নোহান’
বসন্তের কৃষ্ণচূড়ার মতো রক্তিম আমাদের ফেব্রুয়ারি মাস। আর বই যেন স্মৃতির সঞ্চায়ক। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও একুশের স্মৃতিকে ধারণ করে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। তবে নির্বাচন পরবর্তী নতুন পরিবেশ, রমজানের আবহ আর প্যাভিলিয়নহীন আয়োজন মিলিয়ে একুশের চিরচেনা রূপ এবার যেন নতুন এক নীরবতায় ধরা দিয়েছে।
রঙিন নকশায় সাজানো প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ধীর পায়ে মেলায় প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। চেনা কোলাহল নেই, তবুও বইয়ের টানে মানুষ আসছে। নীরব এক উৎসবের শুরু যেন এখান থেকেই। ছবিঃ ফাইজা নোহান।

মেলা সংলগ্ন এলাকায় চলছে ইফতারের প্রস্তুতি। বইয়ের উৎসবের সঙ্গে মিশে গেছে রমজানের আবহ বিক্রেতাদের ব্যস্ততা আর নিরাপত্তা সদস্যদের তদারকি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক দৃশ্য। ছবিঃ ফাইজা নোহান।

প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে, অথচ দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। যেন মেলাপ্রাঙ্গণ নিজেই অপেক্ষা করছে সন্ধ্যার পরের প্রাণচাঞ্চল্যের জন্য। ছবিঃ ফাইজা নোহান।

বই সাজানো আছে পরিপাটি করে স্টলগুলোর সামনে নেই সেই চিরচেনা ভিড়। বিক্রেতারা অপেক্ষায় কিন্তু পাঠকের পায়ের শব্দ যেন আজ কিছুটা ধীর। ছবিঃ ফাইজা নোহান।

এত কিছুর মাঝেও থেমে নেই শিল্পচর্চা। বইমেলার ঐতিহ্য যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে শিল্পীর তুলিতে। প্রতিবারের মতো এবারও সাহিত্যের সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধনে শিল্পীরা বসেছেন ছবি আঁকতে। কেউ নিজের ছবি আঁকাচ্ছেন, কেউ বা প্রিয়জনের। কম ভিড়েও রঙ-তুলির এই আয়োজন মনে করিয়ে দেয়, এই মেলা শুধু বইয়ের নয়, সংস্কৃতিরও এক সমবেত উৎসব। ছবি: ফাইজা নোহান।

ঐতিহ্যের আরও একটি অনুষঙ্গ পুতুলনাচ। কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার আয়োজন করেছে পুতুলনাট্যের। রঙিন পুতুল আর ছোট্ট মঞ্চ ঘিরে শিশুদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। মেলার তুলনামূলক শান্ত পরিবেশেও এই আয়োজন এনে দিয়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। ছবি: ফাইজা নোহান।

মেলায় ভিড় তুলনামূলক কম হলেও পুতুলনাট্যের এই মঞ্চের সামনে তৈরি হয়েছে ছোট্ট এক আনন্দমুখর পরিবেশ। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের কৌতূহলী ভিড়ে শান্ত মেলাপ্রাঙ্গণও যেন কিছুক্ষণের জন্য হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ছবিঃ ফাইজা নোহান।

একটি শিশুর চোখ নিবদ্ধ পুতুলনাট্যের দিকে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে সে যেন গল্পের ভেতর ঢুকে পড়েছে। বইমেলার নীরবতার মাঝেও এই মনোযোগী চোখ মনে করিয়ে দেয় কল্পনার জগৎ এখনো বেঁচে আছে। ছবি: ফাইজা নোহান।

এক শিশুর মাথায় ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’ লেখা ব্যান্ডানা, শিশুদের ভিড়ে এক টুকরো ফেব্রুয়ারির চেতনা। ছোট্ট এই উপস্থিতিই মনে করিয়ে দেয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষার মাসের চেতনা বেঁচে থাকে।
ছবি: ফাইজা নোহান।

পুতুলনাচের পাশাপাশি ছোট ছোট রঙিন পাপেট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। কেউ গল্প শুনছে, কেউ গল্পকে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির এই ছোট্ট স্মারকগুলো যেন মেলার আবেগকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাড়ি বাড়ি। ছবি: ফাইজা নোহান।

আমাদের সচেতনতার জন্য বইমেলায় রাখা হয়েছে একটি প্রতীকী স্টল-‘বিদ্যানন্দ প্রকাশনী’ ।এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতীকগুলো যেন আমাদের প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: ডিজিটাল দুনিয়ার ভিড়ে পাঠাভ্যাস কোথায়? পাইরেসি, অনলাইন আসক্তি আর দ্রুতগতির স্ক্রলিংয়ের মধ্যে বই কি তার পাঠক ধরে রাখতে পারবে? দেয়াল ভাঙা সেই প্রতীকী দৃশ্য, সাহিত্য ও সময়ের নীরব দ্বন্দ্বের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং আমাদের সচেতন হতে বলে। ছবি: ফাইজা নোহান।