চারদিক২৪ ডেস্ক:
দক্ষিণ আমেরিকার সুদীর্ঘ এক নদী আমাজন। এই নদীর অববাহিকার এক ঘন অরণ্যভূমি পরিচিত পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এই অসীম সুন্দর বনভূমির নাম আমাজন রেইন ফরেস্ট। প্রতিবছর এখানে প্রায় ২০০ সে.মি বৃষ্টিপাত হয়।আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে আর্দ্র জায়গা গুলোর একটি। এ জঙ্গলে অন্তত ৪০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ,৪০০ বেশি স্তন্যপায়ী প্রাণী ৩ হাজারের বেশি প্রজাতির মাছ ৩৭০ এর বেশি প্রজাতির স্বরীসৃপ,১৩০০ প্রজাতির পাখি,৪০০র বেশি প্রজাতির উভচর প্রাণী।
২০১৯ সালেই আমাজন জঙ্গলের ব্রাজিল অংশে ৭৪১৫০ টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দাবানলের কারণে আদ্র এই অঞ্চলে এতো বেশি পরিমান আগুনের ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে দাবানলের কারণে। একটি রেইন ফরেস্টে এতো বেশি দাবানলের ঘটনা মোটেও যুক্তিসংগত নয়। জুলাই – অক্টোবর পর্যন্ত আমাজন অঞ্চল শুষ্ক থাকে।এই সময়ে আগুন লাগা নতুন কিছু নয়।এ বছর আগুনের ঘটনা নজিরবিহীন। বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি স্থানে আগুন জ্বলছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আগুন লাগার তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথম কারণ, বন উজাড়,ঘরবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা নির্মানের জন্য মানুষ গাছপালা কেটে বন উজাড় করছে।কেটে ফেলা গাছগুলো নিশ্চিহ্ন করার সবচেয়ে ভালো কৌশল কিছুদিন রোদে শুকিয়ে গাছগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা।আর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের জঙ্গলে। দ্বিতীয় কারণ, কৃষিজমি ও গবাদিপশুর চারণভূমি তৈরি করতে জঙ্গলে সরাসরি আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে মানুষ। ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ এফ এর মতে বন উজাড়ে যে সকল যন্ত্র ব্যর্থ,সেখানেই আগুন দেয়া হচ্ছে। তৃতীয় কারণ, খরা রীতিমতো একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছে। পানিস্বল্পতায় জঙ্গলের গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। শুষ্ক গাছে আগুন লেগে আরো বৃক্ষ নিধন ঘটছে।ফলে বাড়ছে খরার তীব্রতাও।তিনটি কারনের সম্মিলন ফায়ার প্রুফ রেইন ফরেস্টকে আগুনের কুন্ডলীতে পরিনত করেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এ বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাজন বনে আগুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ব্যবধানে আগুনের ঘটনা ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রাজিলের বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে জঙ্গল উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছে, বলছে এনজিওগুলো।বলসোনারো উল্টো এনজিওগুলোকে দায়ী করছে, তিনি বলেছেন এনজিওগুলোকে অনুদানের টাকা কমিয়ে দেওয়ার কারণে তারা আমাজনে আগুন দিচ্ছে।
বিশ্ব নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ে তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিভাতে ব্রাজিল সরকার সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে।বলিভিয়ায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,বনের আগুন নেভাতে বোয়িং ৭৪৭-৪০০ সুপারট্যাংরে করে ৭৫ হাজার লিটার অগ্নিপ্রতিরোধক পদার্থ ছিটিয়েছে বলিভিয়া।
আমাজন পৃথিবীর ২০ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।এ জঙ্গলের প্রয়োজনীয়তা শুধু মাত্র ব্রাজিল বা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর নয়।আমাজন জঙ্গলের বিনাশ হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা চিরতরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে আমাজন জঙ্গলে আগুন লেগে বনাঞ্চল হ্রাস ও উষ্ণতাবৃদ্ধির পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
